খুলনা | রবিবার | ২৮ জুন ২০২৬ | ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, হুমকিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৫৪ পি.এম | ২৭ জুন ২০২৬


হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজের মাস্টার (ক্যাপ্টেন) আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) হামলার ঘটনার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও।

সংস্থাটি জানিয়েছে, হামলায় জাহাজটির ব্রিজ বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্য সব নাবিক নিরাপদ আছেন এবং কোনো পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ বা গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ওই এলাকায় আরেকটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যা সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির ভবিষ্যতকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

ইরানি ড্রোন হামলার জবাবে গত শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত করার স্থান এবং উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, এই পদক্ষেপ ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি বাহিনীর অন্যায় আগ্রাসন ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলাকে শান্তি চুক্তির ‘নির্লজ্জ লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর প্রতিশোধ হিসেবে আইআরজিসি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে আরও বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এই উত্তেজনার মধ্যেই বাহরাইন দাবি করেছে, শনিবার বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন তাদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশটিকে ‘শান্তি প্রচেষ্টায় অন্তর্ঘাত’ করার জন্য অভিযুক্ত করেছে বাহরাইন।

জবাবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলো যেন কোনোভাবেই ওয়াশিংটনের পক্ষ না নেয়।

পাশাপাশি ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, এই অঞ্চলের উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরানকে বাদ দিয়ে বা তাদের ভূমিকা বিবেচনা না করে হরমুজ প্রণালিতে কোনো সমান্তরাল পথে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। এর বড় কারণ, প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘আরামকো’ তাদের বিশ্বের বৃহত্তম তেল বন্দর ‘রাস তানুরা টার্মিনাল’ থেকে আবার অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ও জাহাজে লোডিং করার কাজ শুরু করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা, ইকোনোমিক টাইমস

প্রিন্ট

আরও সংবাদ