খুলনা | রবিবার | ২৮ জুন ২০২৬ | ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজার স্মরণ সভায় বক্তারা

১/১১-এর দুঃসময়ে সূর্যমুখী নেতারা পালালেও বুক চিতিয়ে দল রক্ষা করেছিলেন মোর্ত্তজা

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:২৮ এ.এম | ২৮ জুন ২০২৬


সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়সসীমা থাকলেও একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদের মৃত্যু ছাড়া কোনো অবসর নেই। প্রয়াত সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা ছিলেন তেমনই একজন আদর্শ, সৎ ও ত্যাগী নেতাÑযিনি আমৃত্যু দলের ছায়াতলে থেকে তৃণমূলকে সংগঠিত করেছেন।
গত শুক্রবার বিকেলে খুলনা প্রেসক্লাব ব্যাংকুয়েট হলে মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত মহানগর বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজার স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ডু এসব কথা বলেন।
মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এড. শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জয়ন্ত কুমার কুন্ডু সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পতিত স্বৈরাচারের ষড়যন্ত্র নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জয়ন্ত কুমার কুন্ডু বলেন, “২০০৭ সালের ১/১১-এর সময়টি ছিল বিএনপি’র জন্য সবচেয়ে বড় দুঃসময়। সে সময় অনেক শীর্ষ নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তারা ছিলেন ‘সূর্যমুখী’ রাজনীতিক, যারা কেবল রোদ উঠলেই বাইরে আসেন। কিন্তু সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজাদের মতো তৃণমূলের সৎ ও ত্যাগী নেতারাই সেদিন বুক চিতিয়ে দলকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, খুলনার মতো প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির মাঠে থেকেও মোর্ত্তজা কখনো অন্য নেতার চরিত্র হনন করেননি এবং পদ-পদবির জন্য লালায়িত ছিলেন না।
সমসাময়িক রাজনীতি প্রসঙ্গে প্রধান অতিথি বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালানো ফ্যাসিস্ট শক্তি আজ বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল ও সা¤প্রদায়িক অপশক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে। প্রতিমার ওপর জুতা রেখে দেশকে মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণের যে চক্রান্ত চলছে, তাও ওই পলাতক স্বৈরাচারেরই নির্দেশনার ফসল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশ পুনর্গঠনে বর্তমান সরকার সঠিক পদক্ষেপ নেবে এবং বিগত স্বৈরাচারের মতো কোনো দাম্ভিক আচরণ করবে না। সভাপতির বক্তব্যে এড. শফিকুল আলম মনা ১/১১-এর সংকটের কথা স্মরণ করে বলেন, “যখন অনেক বড় বড় নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সাথে বেঈমানি করেছিলেন, তখন সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজাই প্রথম ব্যক্তি যিনি মিডিয়ার সামনে বুক ফুলিয়ে বলেছিলেনÑবেগম খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপি চলতে পারে না।” এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৯৬ পরবর্তী হাসিনা বিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে মোর্ত্তজার সক্রিয় ভ‚মিকার কথা উল্লেখ করে মনা বলেন, প্রশাসন ও জেল-জুলুম তাকে কখনো দমাতে পারেনি। এই বীর নেতার ত্যাগ ও অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে খুলনার একটি রাস্তা বা প্রতিষ্ঠানের নাম সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজার নামে নামকরণ করার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হবে।
স্মরণ সভার শুরুতে প্রয়াত নেতার স্মরণে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবি পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন। এরপর মরহুমের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভা শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মহানগর ওলামা দলের আহবায়ক মাওলানা আবু নাঈম।
মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাসুদ পারভেজ বাবুর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু, সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, প্রয়াত বিএনপি নেতার ছেলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ পারভেজ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. মোল্লা মাসুম রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান নান্নু, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা নার্গিস আলী, ইবাদুল হক রুবায়েত, আব্দুল আজিজ সুমন, ইঞ্জি. নুর ইসলাম বাচ্চু, আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, ইস্তিয়াক আহমেদ ইস্তি, মোঃ তাজিম বিশ্বাসসহ খুলনা মহানগর, জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ