খুলনা | সোমবার | ২৯ জুন ২০২৬ | ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদের ৩ দিনের রিমান্ড

খবর প্রতিবেদন |
০৪:১৩ পি.এম | ২৮ জুন ২০২৬

 

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেফতার জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (২৮ জুন) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সোহেল সরকার।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সংগঠনের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছেন এবং সদস্য ও অর্থ সংগ্রহসহ সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে ভূমিকা পালন করেছেন।

গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, সিম কার্ডসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। এসব আলামত যাচাই, তাঁর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত, অর্থের উৎস অনুসন্ধান এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদ্‌ঘাটনের জন্য সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যে কামরুল হোসেন ও আব্দুর রহিমসহ অনেকে শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ আবেদনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর, অর্থাৎ ৫ আগস্টের পর আমি বাসাতেই ছিলাম। আমি অপরাধী হলে বাসা থেকে পালিয়ে যেতাম। কিন্তু আমি যাইনি। কোনো অপরাধ করিনি। বাসাতেই ছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার একটি ব্যবসা আছে। প্রতিদিন বাসা থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতাম। কেউ হয়তো শত্রুতাবশত আমাকে এ মামলায় জড়িয়েছে।’

এর আগে ২৭ জুন রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ জুন সকাল পৌনে ১০টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন মহাখালী বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কর্মী ও সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ ৩০ থেকে ৩৫ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীকে নিয়ে একটি অবৈধ মিছিল বের করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা এবং জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তাঁরা লাঠিসোঁটা ও উসকানিমূলক ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। একপর্যায়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান।

পরে ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত ককটেল, উসকানিমূলক ব্যানার-প্ল্যাকার্ড ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ