খুলনা | মঙ্গলবার | ৩০ জুন ২০২৬ | ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

সাম্বার ছন্দ নাকি সামুরাইদের চমক, হিউস্টনে শেষ হাসি হাসবে কে?

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০২:২৫ পি.এম | ২৯ জুন ২০২৬

 

ফুটবলের মাঠে অনেক সময় শুধু দুই দলের লড়াই হয় না, মুখোমুখি হয় দুই ধরনের চিন্তা আর দুই রকম বিশ্বাস। একপাশে বিশ্বকাপজয়ী ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ব্রাজিল, অন্য পাশে পরিশ্রম, শৃঙ্খলা আর পরিকল্পনার শক্তিতে বদলে যাওয়া জাপান। হিউস্টনের মাঠে আজকের ম্যাচ তাই শুধুই শেষ ষোলোর লড়াই নয়, এটি অভিজ্ঞতার বিপক্ষে নতুন আত্মবিশ্বাসেরও পরীক্ষা।

বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার রাত ১১টায় বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও জাপান। ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে, কারণ দুই দলই নিজেদের ভিন্ন ফুটবল দর্শন নিয়ে মাঠে নামছে।

গ্রুপ পর্বে শুরুতে মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করলেও এরপর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিল। হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ব্রাজিলের আক্রমণের সবচেয়ে বড় ভরসা এখন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তিন ম্যাচে চার গোল করে তিনি নিজের দুর্দান্ত ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন। দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফেরা নেইমারও অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতায় দলকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছেন।

অন্যদিকে জাপান এবারের বিশ্বকাপে দেখিয়েছে তারা আর শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই আসে না, জয় ছিনিয়ে নিতেও জানে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচে ফেরা, তিউনিসিয়াকে বড় ব্যবধানে হারানো এবং সুইডেনের বিপক্ষে পয়েন্ট আদায়। সব মিলিয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী একটি দল।

কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর পরিকল্পনাভিত্তিক ফুটবলই জাপানের সবচেয়ে বড় শক্তি। সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পাসিং এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় তারা যেকোনো প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারে।

গত বছর টোকিওতে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারানোর স্মৃতিও জাপানকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। সেই ম্যাচ তাদের বিশ্বাস এনে দিয়েছে, বড় দলের বিপক্ষেও সাহসী ফুটবল খেললে জয় সম্ভব।

দুই দলের সর্বশেষ বিশ্বকাপের লড়াই হয়েছিল ২০০৬ সালে। তখন ৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল ব্রাজিল। তবে গত দুই দশকে জাপানের ফুটবলে এসেছে বড় পরিবর্তন। ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা একাধিক ফুটবলার এবং আধুনিক কৌশল তাদের আরও পরিণত করেছে।

আজকের ম্যাচে মাঝমাঠের লড়াই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিল চাইবে নিজেদের আক্রমণাত্মক ছন্দ ধরে রাখতে, আর জাপান চেষ্টা করবে পরিকল্পিত ফুটবলে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে।

৯০ মিনিটের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত ঠিক করে দেবে, অভিজ্ঞতার শক্তি জয়ী হবে নাকি নতুন ইতিহাস লেখার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে জাপান।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ