খুলনা | বুধবার | ০১ জুলাই ২০২৬ | ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

বাবাকে গলা কেটে হত্যা ছেলের যাবজ্জীবন

মেহেরপুর প্রতিনিধি |
১২:৪৯ এ.এম | ০১ জুলাই ২০২৬


মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় নিজের বাবা মনির উদ্দিনকে হত্যার দায়ে ছেলে সিফাত ফকিরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক গোলাম কবির এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সিফাত ফকির মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কল্যাণপুর কালিতলা পাড়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে মনির উদ্দিন রাতের খাবার খেয়ে নিজ বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়েন। আনুমানিক রাত ২টার দিকে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে ঘাতক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে গাংনী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়ের করা হয় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় গাংনীর বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস এম বুলবুল আহমেদের ওপর। তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের ছেলে সিফাত ফকিরের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নিজ বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে মামলায় মোট ৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ, জব্দ তালিকা, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও মামলার অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি সিফাত ফকিরকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নজরুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম শফিকুল আলম।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ