খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০২ জুলাই ২০২৬ | ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ বেড়েছে পরীক্ষার্থী, কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৭ এ.এম | ০২ জুলাই ২০২৬


একই প্রশ্নপত্রে দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে আজ (বৃহস্পতিবার) শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। শুধু কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পৃথক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নেবে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। 
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী, পরীক্ষাকেন্দ্র ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবই বেড়েছে। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নকল প্রতিরোধে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। মনিটরিং সেলে বসে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা মনিটরিং করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবারই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকবে। এসব ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এ সেল থেকে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোনো পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। 
বৃহস্পতিবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা শুরু হবে। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ৮ আগস্ট। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। 
এদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি (ভোকেশনাল)-এর তাত্তি¡ক পরীক্ষা ২৫ জুলাই, বিএমটির তাত্তি¡ক পরীক্ষা ১ আগস্ট এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সের তাত্তি¡ক পরীক্ষা চলবে ২২ জুলাই পর্যন্ত। 
জানা যায়, এবার মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। মোট পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭টি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯ টি। 
সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, চলতি বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৩১৬ জন বেশি। ৪ হাজার ৮৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন। 
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেবেন ৯২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার ৮০৩ জন বেশি। ২ হাজার ৭০৫টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ৪৬১টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন। 
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ভোকেশনাল), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও বিএমটি পরীক্ষায় অংশ নেবেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৬৪৭ জন কম। ১ হাজার ৮৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবেন। 
২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম : প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের কারণে ২০২৭ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের জন্য ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
‎সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরির্বুন করা হয়েছে। নতুন আইনে অনেক কড়াকড়ি এসেছে। ফলে অন্যবারের তুলনায় এবার পরীক্ষা সুষ্ঠু হবে। এছাড়া পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়নকারীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এগিয়ে আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছর কারিকুলামে পরির্বুন করা হবে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, এবার ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। সব বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩। মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭ এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯। 
‎যেদিন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না, সেদিন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলেও জানান মাহদী আমিন। তিনি জানান, এ ছাড়া নকলের জন্য পরিচিত কিছু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওড়, পার্বত্য অঞ্চল ও দুর্গম চরাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কিছু কেন্দ্র এখনো আছে। সেভেন্থ ডে এ্যাডভান্টিস্ট স¤প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের শনিবারের পরীক্ষা বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষাকেন্দ্রে সূর্যাস্তের পর অনুষ্ঠিত হবে।
‎মাহদী আমিন জানান, ২০২৫ সালে পরীক্ষার্থীর (নিয়মিত ও অনিয়মিত) সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮, এর মধ্যে ছাত্র ছিল ৪ লাখ ৯১ হাজার ২৮৪ জন ও ছাত্রী ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১১৪ জন। ২০২৬ সালে মোট পরীক্ষার্থীর (নিয়মিত ও অনিয়মিত) সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪। এর মধ্যে ছাত্র ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪০৬ জন ও ছাত্রী ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩০৮ জন। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ১৪ হাজার ৩১৬ জন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১২২ জন ও ছাত্রী ১৩ হাজার ১৯৪ জন।
‎আর ২০২৫ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৮০৮। ২০২৬ সালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৮৫। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৭৭টি। ‎এর আগে ২০২৫ সালে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬০৫। ২০২৬ সালে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ৬২৬। এবার কেন্দ্র বেড়েছে ২১টি।
মাহদী আমিন বলেন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের শিক্ষাক্রমকে এমনভাবে পরির্বুন করছি, যেখানে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। সহশিক্ষা কার্যক্রমকে শিক্ষায় নিয়ে আসতে চাইছি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ