খুলনা | শনিবার | ০৪ জুলাই ২০২৬ | ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তদন্তে পুলিশ

পাইকগাছার পল্লীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পাইকগাছা প্রতিনিধি |
১২:৩৫ এ.এম | ০৪ জুলাই ২০২৬


পাইকগাছায় রিংকু সরদার (২৬) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের উত্তর বাইনবাড়িয়া গ্রামে স্বামীর বসতবাড়ির একটি গোয়ালঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রিংকু ওই গ্রামের নিবারণ সরদারের স্ত্রী এবং তাদের সংসারে ৬ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় সবার অগোচরে বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে গোয়ালঘরের বাঁশের আড়ার সাথে নাইলনের দড়ি পেঁচিয়ে সে আত্মহত্যা করে। শনিবার সকাল ৬টার দিকে শাশুড়ি গোয়ালঘর থেকে গরু বের করতে গিয়ে রিংকুর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয় প্রতিবেশীরা ছুটে এসে মরদেহটি নিচে নামান। পরে স্থানীয় এক গ্রাম্য চিকিৎসক এসে রিংকু সরদারকে মৃত ঘোষণা করলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং থানায় খবর দেওয়া হয়। 
স্থানীয় বাসিন্দা নভোতোষ মন্ডল মুঠোফোনে জানান, এই দম্পতির সংসারে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক কলহ ও ঝগড়াঝাঁটি চলছিল। প্রায় এক মাস আগে স্বামীর সাথে অভিমান করে রিংকু তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। ১৫ দিন আগে স্বামী রিবারণ গিয়ে তাকে বুঝিয়ে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। এর ঠিক ১৫ দিনের মাথায় শুক্রবার রাতে এই ঘটনাটি ঘটল।
এদিকে নিহতের চাচা নিতিশ চন্দ্র সরকার অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই রিংকুর ওপর তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সে সব সহ্য করে সংসার করছিল। নির্যাতনের মাত্রা সইতে না পেরে মাসখানেক আগে সে আমাদের বাড়িতে চলে আসে। ১৫ দিন আগে জামাই এসে আর নির্যাতন করবে না বলে ভুল স্বীকার করে রিংকু ও তার সন্তানকে নিয়ে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, আমাদের ধারণা রিংকুকে নির্যাতন চালিয়ে সুকৌশলে মেরে ফেলা হয়েছে। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য মরদেহ গোয়ালঘরে ঝুলিয়ে রাখা হয়। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী রিবারণ সরদারের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গড়ইখালীর বাইনবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোঃ খাইরুল আলম জানান, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছি। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ