খুলনা | সোমবার | ০৬ জুলাই ২০২৬ | ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

চোরকে ‘চোর’ বলায়

রূপসায় বৃদ্ধকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা, আটক ২

রূপসা প্রতিনিধি |
১২:৩৬ এ.এম | ০৪ জুলাই ২০২৬


রূপসায় সংঘবদ্ধ চোর চক্রকে ‘চোর’ বলে চিহ্নিত করার জেরে নির্মম হত্যাকানেন্ডর শিকার হয়েছেন হাসান শেখ ওরফে হাসান বিহারি (৬০) নামের এক বৃদ্ধ। চুরির ঘটনা ফাঁস করায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শরিফ বাদী হয়ে ৭/৮ জনকে আসামি করে রূপসা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত ২ জনকে আটক করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪-৫ দিন আগে জাবুসা গ্রামের ফরমান আলী শেখের পুত্র হাসান বিহারির বাড়িতে ভ্যানযোগে কয়েকজন মেহমান আসেন। মেহমানরা বাড়ির ভেতরে অবস্থান করার সুযোগে ওৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে যায়। এই চুরির ঘটনায় হাসান বিহারি একই এলাকার রাশেদ শেখ নামের এক যুবকের সম্পৃক্ততার কথা সন্দেহজনকভাবে এলাকাবাসীর কাছে প্রকাশ করেন। চুরির বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এবং চোর হিসেবে চিহ্নিত করায় হাসান বিহারির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রাশেদ ও তার চক্র।
এই পূর্ব শত্র“তার জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নৈহাটি ইউনিয়নের জাবুসা চৌরাস্তা মোড়ে মিরাজুলের চায়ের দোকানের সামনে হাসান বিহারির পথরোধ করে রাশেদুল। সেখানে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মজিবর শেখের পুত্র রাশেদুল, মুস্তাকিন ও হাফিজুরসহ ৭/৮ জন দুর্বৃত্ত হাসান বিহারির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করার পাশাপাশি ধারালো চাপাতি দিয়ে মাথায় বেধড়ক কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে এবং পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। চোরকে চোর বলাই যেন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।
নৃশংস এই হত্যাকান্ডের পর রূপসা থানা পুলিশ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জাবুসা এলাকার মৃত হাবিবুর শেখের পুত্র রুবেল শেখ (৩২) এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার ভান্ডারকোট এলাকার রশিদ সরদারের পুত্র খায়রুল সরদার (৩৫)-কে আটক করা হয়েছে।
রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রাজ্জাক মীর জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের পুত্র বাদী হয়ে রূপসা থানায় ৭/৮  জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারনামীয় ২ আসামিকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকাবাসী এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে চোর চক্রের মূল হোতাসহ সকল আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ