খুলনা | রবিবার | ০৫ জুলাই ২০২৬ | ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

সমাজ বদলাতে প্রয়োজন সৎ নেতৃত্ব: জামায়াত আমির

খবর প্রতিবেদন |
০৩:০৯ পি.এম | ০৪ জুলাই ২০২৬

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগর কর্মপরিষদ সদস্যদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে গত ২ জুলাই শুরু হওয়া এ শিক্ষাশিবির শনিবার (৪ জুলাই) সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সততা, নৈতিকতা, জবাবদিহিতা এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিভিন্ন বিষয়ে ধারাবাহিক আলোচনা উপস্থাপন করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উপমহাদেশে মুসলমানরা বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘ ৮৬ বছরের পথচলায় অসংখ্য নেতাকর্মী ত্যাগ, কোরবানি ও আত্মোৎসর্গ করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর পথে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের সেই অবদান জাতির কল্যাণে কাজে লাগবে।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আল্লাহকে একনিষ্ঠতা ও ইখলাসের সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার চেতনা সংগঠনটিকে শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম একটি ছোট ভুলের কারণেও ক্ষুণ্ন হতে পারে।

বক্তব্যে তিনি উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ভারতের মুসলমানরা নিরাপত্তা, জানমাল ও সম্মানের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মুসলমানদেরও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জামায়াতের সামনে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মুসলমানরা সার্বজনীন গোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও অনেক সময় তাদের সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনসহ জামায়াতে ইসলামীর ৯০ জন প্রতিনিধি বর্তমানে সংসদে রয়েছেন। জনগণ দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যাশা থেকেই দলটির প্রতি আস্থা রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতা অর্জনের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই হওয়া উচিত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি আত্মশুদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে নিজের ভেতরের নেতিবাচক প্রবণতা দমনের আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর কিতাব ও মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরলে মানুষ পথভ্রষ্ট হয় না। তিনি পরিবার, সংগঠন ও সমাজকে শক্তিশালী করতে নারী-পুরুষের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নারীদের সম্মান ও দ্বীনি কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজের সৎ, মানবিক, হালাল উপার্জনকারী, গ্রহণযোগ্য এবং নেতৃত্বদানে সক্ষম ব্যক্তিদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিতে হবে। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ব্যক্তি যে স্তরের কর্মীই হোন না কেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই তাকে মূল্যায়ন করা উচিত।

বক্তব্যের শেষে কর্মপরিষদের সদস্যদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আমীরদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ