খুলনা | সোমবার | ০৬ জুলাই ২০২৬ | ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় জামায়াতের লিডারশিপ কর্মশালায় বক্তারা

নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হলো সততা, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণে নিবেদিত মানসিকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১১:৪৮ পি.এম | ০৪ জুলাই ২০২৬


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী ‘লিডারশিপ ট্রেনিং কর্মশালা শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শহরের মুন্সিপাড়ায় অবস্থিত জামায়ত অফিসের কাজী শামসুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাঃ ইজ্জতউল্লাহ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মুহাঃ আব্দুল খালেক।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরার জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডাঃ মাহমুদুল হক। শুরুতে খুলনা অঞ্চলের টিম সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এমপি পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ৫৮ নম্বর আয়াতের আলোকে দারসুল কুরআন পেশ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাস্টার শফিকুল আলম, মাওলানা আব্দুর রহীম, মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা প্রমুখ।
প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মুহাঃ ইজ্জতউল্লাহ বলেন, নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হলো সততা, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণে নিবেদিত মানসিকতা। সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে আদর্শিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তিনি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেন। বিশেষ অতিথি মুহাঃ আব্দুল খালেক বলেন, দক্ষ, সৎ ও জনমুখী নেতৃত্ব সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। আদর্শিক চর্চা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহক্ষান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন একজন নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তির মধ্যে নৈতিকতা, আত্মত্যাগ, যোগ্যতা ও সেবার মানসিকতা থাকতে হবে। তিনি বলেন ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊধের্ক্ষ উঠে জনগণের কল্যাণে কাজ করাই একজন প্রকৃত নেতার দায়িত্ব।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত কর্মশালায় নেতৃত্বের গুণাবলি, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, স্থানীয় সরকারের সুযোগ-সুবিধা অর্জনের কৌশল, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য, নির্বাচন প্রচার কৌশল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার এবং জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার আমীর, সভাপতি, সেক্রেটারি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা অংশগ্রহণ করেন। 
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন এ ধরনের প্রশিক্ষণ নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে। কর্মশালায় আলোচিত বিষয়গুলো ভবিষ্যতে সাংগঠনিক ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম পরিচালনায় বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন তারা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ