খুলনা | সোমবার | ০৬ জুলাই ২০২৬ | ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় আলোচনা সভায় বক্তারা

স্বাধীনতা-বিরোধী পরাজিত শক্তি সরকারের বিরুদ্ধে নানা গুজব ছড়িয়ে ভাবমূর্তি ক্ষুণেœর চেষ্টা করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১১:৪৮ পি.এম | ০৪ জুলাই ২০২৬


সাতক্ষীরায় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা অক্ষুণœ রাখা এবং বর্তমান সরকারের সফলতা কামনা করে এক মতবিনিময় সভা শনিবার বেলা ১১টায় শহরের পাকাপুল মোড়স্থ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট এই সভার আয়োজন করে।
সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা স ম শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিক আহমেদ মোল্যার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা ইউনিটের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মিজানুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুজ্জামান খোকন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈনুদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. নূরুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুজ্জামান বাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম জালালউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জবক্ষার প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার। স্বাধীনতা-বিরোধী পরাজিত শক্তি এই সরকারের বিরুদ্ধে নানা গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার চেষ্টা করছে। স্বাধীনতা-বিরোধী চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও এর স্মৃতিগুলো। সে কারণেই একের পর এক মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ধ্বংস করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহŸান জানিয়ে তাঁরা বলেন বিগত আন্দোলনের সময় সাতক্ষীরা জেলা শহরের তিনটি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অথচ এই নারকীয় ঘটনার পর এখনো কোনো মামলা হয়নি বা জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়নি। বক্তারা অবিলম্বে এসব কমপ্লেক্স সংস্কার এবং হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানান।
সভায় বক্তারা মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, সরকারিভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ (২০ হাজার টাকা) দেওয়া হলেও তা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। সরকারি হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধারা সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না এবং জরুরি মুহূর্তে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ মিলছে না। তার দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের দাবি জানান।
জুলাই বিপ্লবের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহিদ পরিবারগুলো ৩০ লাখ টাকা (যার মধ্যে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র) ও মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতাসহ মোট প্রায় ৩৮ হাজার টাকা পাচ্ছে। অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার পাচ্ছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি একাত্তরের শহীদদের প্রতিও বিন¤্র শ্রদ্ধা জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক স ম শহিদুল ইসলাম বলেন, গত ২ জুলাই সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম আশ্বাস দিয়েছেন যে, সাতক্ষীরায় কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবেন না। সরকারি হাসপাতালে ওষুধ না থাকলে তা কিনে দেওয়া হবে। তবে এই সুবিধা শুধু মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর স্ত্রী পাবেন।
এর আগে সভার শুরুতেই পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। এরপর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে জেলার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্থতা কামনা করা হয়।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ