খুলনা | রবিবার | ০৫ জুলাই ২০২৬ | ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প পরিদর্শন

‘আমাকে দেখে কি বেকুব মনে হয়’ পিডিকে প্রশ্ন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৩৩ এ.এম | ০৫ জুলাই ২০২৬


দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চলা খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক স¤প্রসারণ প্রকল্প তদন্তে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয় মানুষ তাঁদের সীমাহীন দুর্ভোগের কথা মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে জানান। সড়কের একপাশে স্লুইসগেটের ওপারে বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ দেখে কেডিএ’র কর্মকর্তাদের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি।
বিষয়টির ভুল ব্যাখ্যা শুনে প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাকে দেখে কি বেকুব মনে হয় তোমার? তুমি এখান থেকে পানি বের হওয়ার রাস্তা  তৈরি করেছো। পানি যাতে ঢুকতে না পারে সেজন্য স্লুইসগেট করেছো। আবার তার সামনে দিয়ে রেখেছো বাঁধ। এর মানেটা কী?’ সড়কের বিভিন্ন স্থান ও বাঁক দেখে এ সময় বিভিন্ন নির্দেশনা দেন তিনি।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি দেখতে পরিদর্শন করেন মন্ত্রী পরিষদের সচিব। পরিদর্শনকালে প্রকল্পের প্রধান সড়ক, চারটি স্লুইসগেট, প্রকল্প এলাকার ম্যাপ, রূপসা সেতুর প্রবেশ মুখে নির্মাণাধীন ব্রিজ সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণের সাথে কথা বলেন মন্ত্রী পরিষদের সচিব।
কেডিএ থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৭ মে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ছিল ৯৮ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ২১ জুলাই দ্বিতীয় দফা প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব একনেক সভায় উত্থাপন করা হয়। তখন দ্রুত কাজ শেষ করার শর্তে ২৫৯ কোটি টাকার দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।  এরপর আরও ৬ বছর পর প্রকল্পের ব্যয় তৃতীয় দফা সংশোধন করে গত ৯ জুন একনেক সভায় উত্থাপন করা হয়। সভায় খুলনা ‘শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন না দিয়ে ফেরত দেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। প্রায় ১৩ বছর ধরে ঝুঁলে থাকা এই প্রকল্পের অস্বাভাবিক বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ ছাড়াও তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সভা থেকে ফেরত পাঠানো হয় ২৮০ কোটি টাকার সংশোধনী প্রকল্পটি।
সভায় সড়কের কাজ শেষ না হওয়ার কারণ ও গাফিলতি খুঁজতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য করা হয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরীকে। শনিবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা সড়কটি ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)’র সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ হারুন, কেডিএ’র চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, প্রকল্প পরিচালক মোঃ আরমান হোসেনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও কেডিএ’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 
পরে সাংবাদিকদের মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘কেন সড়কটির কাজ এত দিনে শেষ হয়নি, এখন কী অবস্থায় রয়েছে এবং কাজের মান কেমন তা আমরা দেখে গেলাম। দ্রুত যাতে কাজটি শেষ হয়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ 
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি খুলনা সার্কিট হাউজে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন সভায় যোগদান করেন। এর আগে তিনি সার্কিট হাউজ চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)’র সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ হারুন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ’র চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের পরিচালক মোঃ আরমান হোসেনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও কেডিএ’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে খুলনায় আগমন উপলক্ষে মন্ত্রী পরিষদের সচিব মোঃ নাসিমুল গনিকে পৃথকভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ