খুলনা | রবিবার | ০৫ জুলাই ২০২৬ | ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

১০টি স্পোর্টস ভিলেজ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

কৃষ্ণ গোপাল সেন, রূপসা |
০১:৩৪ এ.এম | ০৫ জুলাই ২০২৬


যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় তিনশ’ জন খেলোয়াড়কে পেশাগত স্বীকৃতি বাবদ ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান করেছি। পর্যায়ক্রমে আরো দুইশ’ জন জাতীয় খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করে সর্বমোট পাঁচশ’ জনকে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হবে। 
তিনি শনিবার রূপসা উপজেলার পালেরহাট মাঠে বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটি ক্রীড়াবান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। লেখাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পেশাগত স্বীকৃতি প্রদান করতে চাই। তিনি বলেন, খুলনা বিকেএসপিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার চেষ্টা করবো দ্রুত সময়ের মধ্যে। ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলে মাঠ সংরক্ষণ ও সংস্কার করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খেলার উপযোগী মাঠ উপহার দিতে চাই। 
তিনি বলেন, ক্রীড়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সারাদেশে নতুনকুঁড়ির মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই দেশের প্রতিটি এলাকায় ক্রীড়াচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সর্বস্তরের যুবসমাজকে আবারও ক্রীড়াঙ্গণে ফিরিয়ে আনতে এবং প্রান্তিক পর্যায়ের মাঠগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আধুনিকায়ন ও সংস্কার করা হবে। প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা হবে, যাতে গ্রামের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাও নিজেদের মেধা বিকাশের সমান সুযোগ পান।
জাতীয় দলের সাবেক এই কৃতি ফুটবলার আরও বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গণকে ঢেলে সাজাতে বর্তমান সরকার ৮টি বিভাগকে ১০টি ক্রীড়া অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটি অঞ্চলে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এসব স্পোর্টস ভিলেজে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, শুটিং রেঞ্জ, আধুনিক জিমনেশিয়াম, অনুশীলন মাঠ, আবাসন সুবিধা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এর ফলে দেশের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকাংশে কমে আসবে। সরকারের লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন নয়, বরং দেশের প্রতিটি শিশু ও তরুণকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তোলা। ক্রীড়াঙ্গণের উন্নয়নে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে এবং এর সুফল আগামী দিনগুলোতে দেশবাসী দেখতে পাবে।
ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তৃতায় খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপি’র তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রে রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলার অসামান্য অবদান রয়েছে। স্কাউটস, এ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া অঙ্গনে এ অঞ্চলের খেলোয়াড়রা দীর্ঘদিন ধরে সুনাম অর্জন করে আসছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ অঞ্চলের অনেক ক্রীড়াবিদ তাদের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন। 
তিনি বলেন, এই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরির লক্ষে তাঁর নির্বাচনী এলাকার রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ায় পৃথক পৃথক আধুনিক ও যুগোপযোগী স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আহŸান জানান। এসব স্টেডিয়াম নির্মিত হলে তৃণমূল পর্যায়ের খেলোয়াড়রা নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাবেন এবং জাতীয় পর্যায়ের আরও দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 
হেলাল আরও বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি যুবসমাজকে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে। তাই তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। ক্রীড়াচর্চার প্রসারের মাধ্যমে রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়াকে একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশের জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং এ লক্ষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল ইসলাম বাপ্পি, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু ও বিসিবির সাবেক পরিচালক খান জুলফিকার আলী জুলু। এতে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক জিএম কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল হক সজল, সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ, দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক সাইফুর রহমান মিন্টু, রূপসা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, তেরখাদা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক চৌধুরী কাউসার আলী, রূপসা উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা বিএনপি’র সদস্য মোল্যা এনামুল কবীর, আরিফুর রহমান আরিফ, আনিসুজ্জামান বিশ্বাস, এম এ সালাম,আছাফুর রহমান, জেলা শ্রমিক দলের আহবায়ক উজ্জল কুমার সাহা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইশতিয়াক আহম্মেদ ইশতি, জেলা তাঁতিদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল আলম লোটাস, রূপসা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র। 
উদ্বোধনী খেলায় অংশগ্রহণ করে স্বাগতিক শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ফুটবল দল এবং তেরোখাদা মধুপুর ইউনিয়ন ফুটবল দল। তুমূল প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই খেলায় স্বাগতিক দল মধূপুর ইউনিয়ন ফুটবল ১-০ শূন্য গোলে হারিয়ে বিজয় অর্জন করেন। খেলা পরিচালনা করেন ফিফা রেফারি জুনায়েদ শরীফ, ন্যাশনাল রেফারি তানভির হোসেন, আবু বক্কর, কামাল আহম্মেদ।
উল্লেখ্য, খুলনা-৪ আসন রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে ১৫টি দল।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ