খুলনা | রবিবার | ১৪ অগাস্ট ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’র প্রভাব

উপকূলীয় জেলা খুলনার সোয়া তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক |
১২:৩৯ এ.এম | ০৮ ডিসেম্বর ২০২১

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নেয়ার পর আরও দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। দু’দিনের গুমোট আবহাওয়া কাটিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে সূর্য্যরে আলোর দেখা মেলে। সাগরে ঘুরে দিক পরিবর্তন করলেও ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’র প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনার প্রায় সোয়া তিন হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন, শীতকালীন সবজি, রোবো বীজতলা ও সরিষা আক্রান্ত হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের কৃষক। ফলে শীতকালীন শাক-সবজির মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার সূত্রে জানা গেছে, জাওয়াদের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনাতে মুষলধারে বর্ষণ হয়। জোয়ারে নদ-নদীর পানি বাড়ে। এতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধতা দেখা দেয় ফসলের ক্ষেতে।
সূত্রটি জানান, খুলনাতে ৩ হাজার ২০২ হেক্টর জমির রোপা আমন, ১২ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজি, ৮ হেক্টর বোরো বীজতলা ও ৮ হেক্টর জমির সরিষা ক্ষেত আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে উপকূলবর্তী উপজেলাগুলোতে। এর মধ্যে বটিয়াঘাটায় ১২শ’ হেক্টর, কয়রায় ৮০০ হেক্টর, দাকোপে ৭০০ হেক্টর ও পাইকগাছায় ৫০০ হেক্টর জমির রোপা আমনের ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত। তাছাড়া শষ্য ভান্ডার খ্যান্ত ডুমুরিয়ার ১০ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজি ক্ষতির মুখে।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাওয়ার পাম্প বসিয়ে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন চাষীরা। পাকা আমনের ক্ষেতের চিত্রও করুণ। 

তাদের ভাষ্যমতে, ধানের পাশাপাশি বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, মুলা, বেগুন, কাঁচা মরিচ, লালশাক, ধনেপাতাসহ সব ধরনের রবি ফসল ব্যাপক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা।

কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু কিছু এলাকায় রোপা আমন ধানসহ রবি ফসলের ক্ষতি হতে পারে। ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে মাঠ জরিপ করেছি। এখনো দু-তিন পর পানি নিষ্কাশনের পর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে। তবে ক্ষতি কমাতে কৃষকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, জাওয়াদের প্রভাবে খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের শাকবাড়িয়া নদীর ভেড়িবাঁধ ভেঙে গাতীরঘেরী ও হরিহরপুর গ্রাম আবারও প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দুই শতাধিক পরিবার। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারের গাফিলতিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবেও একই স্থানে ভেঙে গিয়েছিল।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ