খুলনা | সোমবার | ০৬ জুলাই ২০২৬ | ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

ডুমুরিয়ায় ভদ্রানদী খননের মাটি বিক্রি : তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা ‎

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি |
১১:৩৯ পি.এম | ০৫ জুলাই ২০২৬


‎ডুমুরিয়ায় ভদ্রানদী খনন প্রকল্পের মাটি বিক্রির অভিযোগে প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পরিবর্তে তদন্তে অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মন্তব্য সচেতন মহলের। 
স্থানীয়দের অভিযোগ ভদ্রানদী খননের মাটি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে খর্ণিয়া এলাকার রফিক নামে এক মাটি ব্যবসায়ী বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে বিক্রি করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। গত ২৮জুন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন। ওই বার্তায় তিনি আরও বলেন মানবিক বিষয়ে কয়েক জনকে সরকারি মাটি নেয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ওই মাটি কিনে কৃষি জমি ভরাট করেছে রাজু মোল­া, কোমল পশারী ও তহিদ মোল্যা, বসত ঘরের উঠান বারান্দা ভরাট করেছে আনিস ফকির ও পুকুর ভরাট করেছে পশুবতি বিশ্বাস। অথচ ব্রীজ নির্মাণে বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত ইসলাম সরদার এক ইঞ্চি মাটিও পায়নি। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রশ্ন, অতীতে একই ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গত ৬জুন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ওই ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও এখন কীভাবে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হচ্ছে।
‎অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করলে বাস্তব চিত্র উঠে আসত। কিন্তু তদন্তে এসব বিষয় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে তাদের দাবি। মজার ব্যাপার হলো তদন্তকারী কর্মকর্তা শুধুমাত্র যারা ব্যক্তি স্বার্থে কৃষি জমি, বাড়ির উঠান ও পুকুর ভরাট করেছে তাদের বক্তব্য নিয়েই নিজের সাফাই গেয়েছেন। তবে এ বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন অভিযোগকারীরা। তারা নিরপেক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ‎এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ