খুলনা | সোমবার | ০৬ জুলাই ২০২৬ | ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

আশাশুনির দাঁড়ারখাল অবমুক্তের দাবীতে কৃষকদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১১:৪১ পি.এম | ০৫ জুলাই ২০২৬


সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার “দাঁড়ার খাল” এর ইজারা বাতিল ও খাল অবমুক্ত রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। রোববার বেলা ১১ টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। পরে একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন ভুক্তভোগি কৃষকরা।  
আশাশুনির কুল্যা ইউনিয়নের কৃষিজীবি অসহায় মানুষের অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কৃষক রবিউল ইসলাম, আবু মুছা, বাবু মোল্যা, মহিউদ্দীন লাকী, মুয়াজ্জিন আব্দুস সাত্তার, কৃষক রেজাউল ইসলাম খোকা, আব্দুল গফুর প্রমুখ। বক্তারা বলেন, আশাশুনি উপজেলার আইতলা মৌজায় বিআরএস খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে সর্বমোট ২১,৭১০০ একর জমি রয়েছে। এই জমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খাল দিয়ে দীর্ঘকাল এলাকার পানি নিষ্কাশন হয়ে থাকে। খালের উভয় পাশে ৩/৪ হাজার বিঘা আবাদী জমি রয়েছে। এলাকার শত শত পরিবার জমিতে ধান চাষ করে খাদ্য যোগান ও সংসার নির্বাহ করে থাকে। এলাকার মৎস্য চাষীরাও মাছ উৎপাদন করে থাকে। এলাকার কিছু স্বার্থন্বেষী মহল খালটি ইজারা নিয়ে বিধি বহির্ভূতভাবে মাটির বাঁধ ও আড়াআড়ি ভাবে নেটপাটা দিয়ে পানি সরবরাহ রুদ্ধ করে রাখে। ফলে প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে ইউনিয়নের অর্ধেকের বেশী মানুষের ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এলাকার অধিকাংশ কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে থাকে। ফলে এলাকার মানুষ প্রতি বছর খাদ্য অভাব ও স্বাভাবিক জীবন যাপন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বক্তারা আরো বলেন খালটি ইজারা দিয়ে সরকার যতটুকু রাজস্ব পাচ্ছে তার থেকে অনেকগুণ জনসাধারণ তথা সরকারের ক্ষতি সাধিত হয়ে থাকে। কৃষকদের ফসল নষ্ট হওয়ার কারণে অধিকাংশ কৃষক হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। কৃষকরা সংসারের ঘাটি টানতে গিয়ে ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে এলাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত ও ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল কলেজে যেতে পারে না। পানি বন্দীর কারণে মাছ চাষীদের ঘেরের অবস্থা চরমভাবে ভেঙে পড়ায় পথে বসার উপক্রম হতে চলেছে।
বক্তারা আরও বলেন গত বছর বর্ষা মৌসুমে পানির চাপে এলাকা প্লাবিত হতে থাকলে প্রশাসনকে জানিয়ে এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনগণ একযোগে সকল বাঁধ কেটে প্রতিবন্ধকতা দূর করে এলাকে রাহু মুক্ত করতে সক্ষম হয়। এ নিয়ে আইনী জটিলতা হলেও এলাকার সকল জমিতে বাম্পার ফলন হয়। ফলে দীর্ঘ সময়ের পরে এলাকার কৃষকের মাঝে আনন্দ ফিরে আসে। এবছর আবারও পানিতে ডোবার হাত থেকে রক্ষা পেতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষ থেকে মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী ও জনপথকে রক্ষার দাবীতে জজ কোর্টের এপিপি এড. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্বারকলিপি প্রদান করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের সুপারিশকৃত স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে সকলকে আশ্বস্ত করেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ