খুলনা | সোমবার | ০৬ জুলাই ২০২৬ | ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে নাকাল

ডুমুরিয়ার মানুষ, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে সমাধানের আশ্বাস এমপি আলী আসগার লবি’র

এফ এম মনির, ডুমুরিয়া |
১১:৪৬ পি.এম | ০৫ জুলাই ২০২৬


খুলনার বৃহৎ উপজেলা ডুমুরিয়ার জনসাধারণের লোডশেডিং যাতাকলে পড়ে সম্পূর্ণ নাকাল অবস্থা। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় জনজীবন একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ একেবারেই অপ্রতুল থাকায় বর্তমান বিদ্যুৎ নির্ভর মিল কল-কারখানার কার্যক্রম চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে সীমাহীন  ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচন্ড গরমে কোনভাবেই পড়ায় মনোনিবেশ করতে পারছে না তারা। 
জানা গেছে, খুলনা জোনে বিদ্যুতের চাহিদা ৭০-৮০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ রয়েছে মাত্র ৪০-৫০ মেগাওয়াট। শাহপুর সাব-স্টেশনে ৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৩ মেগাওয়াট। বেশিরভাগ সময় এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার ফলে দিনমজুর শ্রেণীর খেটে খাওয়া মানুষগুলো সারাদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে অসহনীয় গরমে রাতে ঘুমাতে পারছে না। ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে চরম  বিপাকে রয়েছে পিতা মাতা। রাত জেগে হাতপাখা টেনে বাতাস দিতে গিয়ে  তারাও নাজেহাল হয়ে পড়ছে। 
রঘুনাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী আরিফ শাহরিয়ার, সিয়াম ও মাহিম অভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেন, প্রতি রাতে পড়ার সময় বিদ্যুৎ চলে যায়, গরমে প্রচুর অস্বস্তি লাগে পড়ায় মন বসে না। রুদাঘরা গ্রামের অভিভাবক ফারহানা সুলতানা বলেন সময় মত বিদ্যুৎ না থাকায় অস্বস্তিকর গরমে বাড়িতে যেমন ছেলে-মেয়েদের প্রয়োজন মত পড়াতে পারছিনা তেমনি স্কুলেও তারা দীর্ঘ সময় গরম ভোগ করে পাঠগ্রহনে মনোযোগী হতে পারছে না। অবস্থা দৃষ্টে অনেক অভিভাবক মনে করছেন বর্তমান বিদ্যুতের এই বিপর্যয় তাদের সন্তানদের উজ্জল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে দারুন বিঘœ সৃষ্টি করছে।
আর,আর,জি, টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বি এম কামাল হোসেন বলেন, প্রতিদিনের লোডশেডিং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। শাহপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম বাবলু বলেন,  লোডশেডিংয়ের ফলে উন্নয়নমুখী যাবতীয় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন এইচএসসি পরীক্ষা চলছে, এ অবস্থার দ্রুত সমাধান জরুরি।
পল্লী বিদ্যুতের শাহপুর সাব-জোনাল অফিসের এজিএম অশোক কুমার বিশ্বাস জানান, ডুমুরিয়া উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে চাহিদা ২৫ মেগাওয়াট অথচ সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ১১ মেগাওয়াট, ফলে লোডশেডিং এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
পল্লী বিদ্যুত খুলনা অফিসের জেনারেল ম্যানেজার তুষার কান্তি মন্ডল বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় সীমিত বিদ্যুৎ বিভিন্ন এলাকায় ভাগ করে দিতে হচ্ছে, এতে ভোগান্তি হচ্ছে। এ বিষয়ে খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আজগর লবি বলেন লোডশেডিং সমস্যা দ্রæত সমাধানের চেষ্টা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সার্বিক উন্নয়নে ভাটা পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ