খুলনা | সোমবার | ০৬ জুলাই ২০২৬ | ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

নড়াইল কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদির মৃত্যু

নড়াইল প্রতিনিধি |
১২:২১ এ.এম | ০৬ জুলাই ২০২৬


নড়াইল জেলা কারাগারে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি লাইচ বেগম ওরফ লাইচনা (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার বিকেলে নড়াইল জেলা কারাগারের জেলার সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লাইচ বেগম লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন (৩০ বছর) সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। জেলা কারাগারে তার মহিলা কয়েদি বন্দি  নং -৭১৯০/এ। 
নড়াইল জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায় বিগত ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের মুসা খন্দকার প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়। নিহতের ভাই বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানির পর গত বছরের ১৪ মে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক এলিনা আক্তার ওই মামলায় লাইচ বেগম ওরফে লাইচনা, তার দেবর আকরাম মোল্লা ও জাফর খন্দকারসহ তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত লাইচ রায় ঘোষণার পর থেকে নড়াইল জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। শরীরের নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে গত মাসে তিনি কারাগারেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। আরও জানা যায়, রোববার দুপুরে যাবজ্জীবন সাজা ভোগকারী লাইচ কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলোক কুমার বাগচী মৃত ঘোষণা করেন। 
জেলার সাইফুল ইসলাম বলেন, কয়েদি লাইচ বেগম উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যাসহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে কারাগারে তার চিকিৎসা চলছিলো। দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুরতহাল ময়নাতদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাইচের মরদেহ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ