খুলনা | সোমবার | ০৬ জুলাই ২০২৬ | ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কারের ঘোষণা, আসছে নতুন কারিকুলাম ও শিক্ষক নীতিমালা

খবর প্রতিবেদন |
০৪:০৯ পি.এম | ০৬ জুলাই ২০২৬


প্রাথমিক শিক্ষাকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে নতুন কারিকুলাম, সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা, প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

আজ সোমবার (০৬ জুলাই) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে আগারগাঁও তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, শেখার ঘাটতি দূর করা এবং মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পুনর্বিন্যাসকৃত কারিকুলাম, শিক্ষক উন্নয়ন নীতিমালা এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত চার মাস ধরে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাজধানীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আধুনিকায়নে চলমান 'দৃষ্টিনন্দন' প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামোগত ঘাটতিও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের শেখার অগ্রগতি যাচাই করা হয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভালো করলেও যারা নির্দিষ্ট বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান কারিকুলামকে আরও সহজ, কার্যকর ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক করে পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন (সিপিডি), কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন (কেপিআই), তদারকি এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ভিডিও লেসন, স্মার্ট ক্লাসরুম, ফ্ল্যাট প্যানেল, তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীর শেখার ঘাটতি শনাক্ত করে পুনরায় শেখানোর ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়; বরং শিক্ষার গুণগত মানে মৌলিক পরিবর্তন আনা। এজন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসন, প্রযুক্তি ও কারিকুলামকে সমন্বিত করে কাজ করা হচ্ছে।

এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকা অঞ্চলের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আবদুল আজিজ, ঢাকা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভিন্ন থানার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ