খুলনা | সোমবার | ০৬ জুলাই ২০২৬ | ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রেমিকার বাসায় নিয়ে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর দুজনেরই পলায়ন

খবর প্রতিবেদন |
০৪:২৩ পি.এম | ০৬ জুলাই ২০২৬

 

ভারতের পুনেতে আবাসন ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই হরিয়ানার গুরুগ্রামের মানেসার থেকে প্রায় একই ধরনের এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক যুবক এবং তাঁর প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তদন্তকারীদের দাবি, প্রেমিকার ভাড়া ঘরে বসে দীর্ঘদিন ধরে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যাতে তাঁদের তিন বছরের পুরোনো সম্পর্কটি নির্বিঘ্নে চালিয়ে নেওয়া যায়।

পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ২২ মে ভুক্তভোগী ২২ বছর বয়সী তরুণীর মায়ের দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মানেসারের বাসিন্দা অঙ্কিতের সঙ্গে ওই তরুণীর বিয়ে হয়েছিল।

গত ২১ মে থেকে ওই তরুণী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সন্তোষজনক উত্তর পায়নি। জামাতা ও তাঁর পরিবারের ওপর সন্দেহ হওয়ায় তরুণীর মা মানেসার থানায় একটি মামলা করেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ২২ মে মানেসারের একটি কক্ষ থেকে ওই তরুণীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টের পর মামলায় দণ্ডবিধির হত্যা ধারা যুক্ত করা হয় এবং তদন্তের গতি বাড়ানো হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশ ২৫ বছর বয়সী স্বামী অঙ্কিত এবং তাঁর ৩৮ বছর বয়সী প্রেমিকা রজনী দেবীকে গ্রেপ্তার করেছে। অঙ্কিত মানেসারের একটি তামাকের দোকান চালাতেন এবং রজনী স্থানীয় একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, অঙ্কিত এবং রজনী গত তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। বিয়ের পরেও সেই সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তাঁরা অঙ্কিতের স্ত্রীকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশের দাবি, রজনীর ভাড়া করা ঘরে বসেই পুরো হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন অঙ্কিত তার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে সেই ঘরে নিয়ে যান এবং সেখানে দুই অভিযুক্ত মিলে তাকে গুলি করে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে উত্তরপ্রদেশ থেকে বিশেষভাবে এই অপরাধ সংঘটনের জন্যই কেনা হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর অঙ্কিত ও রজনী প্রথমে হরিদ্বারে এবং পরে সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে পালিয়ে যান। গত ৩০ জুন ভারতে ফিরে আসা পর্যন্ত তাঁরা পলাতক ছিলেন। ভারতে প্রবেশ করার পরপরই মানেসারের ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের পাঁচ দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মানেসার পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।’

সম্প্রতি ভারতের পুনেতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। ওই ঘটনায় কেতনের বাগ্‌দত্তা সিয়া গোয়াল ও তাঁর প্রেমিক মিলে কেতনকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গুরুগ্রামে প্রায় একই ধরনের আরেকটি অপরাধের ঘটনা ভারতীয় সমাজে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং এর জেরে চরম অপরাধ প্রবণতার এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ