খুলনা | সোমবার | ০৬ জুলাই ২০২৬ | ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

সাপ-ব্যাঙ আর পোকামাকড়ের সাথে বসবাস

চোখের জল আর বৃষ্টির পানিতে ভাসছেন সাবেক মেম্বার দিপ্তী

এস এস সাগর, চিতলমারী |
০৫:৩৮ পি.এম | ০৬ জুলাই ২০২৬


চারিদিকে বৃষ্টির পানি। কোথাও হাটু, কোথাও কব্জি সমান। মাঝে বাঁশ-খুঁটি ও পাটাতনের উপর ভেসে আছে একখানা ভাঙাচোরা ঘর। বৃষ্টির পানিতে ঘরের বেড়া ও গাছ-খুঁটি খুলে পড়ছে। ঘরের স্যাঁতস্যাঁতে মেঝেতে কেঁচো, পোকামাকড় ও সাপ-ব্যাঙের উপদ্রব। আর এদের সাথেই বসবাস করছেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য দীপ্তি মজুমদার (৬০)।  

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ৩ টায় বৃদ্ধা দীপ্তি মজুমদার কান্না জড়িতকণ্ঠে জানান, ২০১২ সালে তাঁর স্বামী ক্ষিরোদ চন্দ্র মজুমদার মারা যান। স্বামীর রেখে যাওয়া সহায় সম্বল কিছু ভাগে পাননি। মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে একমাত্র সন্তান সিনিগ্ধাকে লেখাপড়া শেখান। ২০১৩ সালে মেয়ে বিয়ে দেন। এরপর থেকে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে নিজ বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন। ২০১৬ সালে এলাকার মানুষের অনুরোধে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। কিন্তু তিনি ৫টি বছর নিজের জন্য কিছুই করেননি। শুধু মানুষের জন্য করে গেছেন। আর আজ তিনি নিজেই বড় অসহায়।

দীপ্তি মজুমদার আরও জানান, প্রভাবশালীরা তাঁর বাড়ির চারিদিকে বালু উত্তোলন করেছে। সামান্য বৃষ্টিতে তাঁর বসতঘর ও রান্নাঘরটি তলিয়ে যায়। রান্নাঘরটি এখন আর ব্যবহারের উপযোগী নেই। স্যাঁতস্যাঁতে ঘরের মেঝেতে রান্না-খাওয়া ও থাকা। চারিদিকে কেঁচো, পোকামাকড় ও সাপ-ব্যাঙের উপদ্রব। আর এদের সাথেই তাঁকে বাধ্য হয়ে বসবাস করতে হচ্ছে।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘গত ১ জুলাই সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ভাঙ্গা রাস্তা পরিদর্শনে গেলে ওই নারীর সাথে কথা হয়। আমি সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে পাইপ দিয়ে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করতে বলেছি।’ 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ