খুলনা | মঙ্গলবার | ০৭ জুলাই ২০২৬ | ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

নগরীতে ১০ বছরের মাদ্রাসা ছাত্রকে শিকল বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ, গ্রেফতার শিক্ষক কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক |
১২:৩৬ এ.এম | ০৭ জুলাই ২০২৬


নগরীতে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে পায়ে শিকল বেঁধে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নগরীর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মুহতামিম মাওলানা মোঃ আসলাম উদ্দিনকে আটক করা হয়। রোববার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এমন অমানবিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু মিরাজুল ইসলামের বাবা একজন দিনমজুর। ছেলেকে কোরআনে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন নিয়ে তিনি স্থানীয় ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন। তবে ভর্তির পর থেকেই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বা মুহতামিম মাওলানা আসলাম উদ্দিন শিশুটির ওপর বিভিন্ন ভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন।
অভিযোগে জানা যায়, পড়াশোনার বাইরেও ওই শিক্ষক শিশু মিরাজুলকে দিয়ে বাড়ির নানা ব্যক্তিগত কাজ করাতেন। এর মধ্যে গৃহপালিত পশুপাখি ও গরু-ছাগল চরানোর মতো কাজও ছিল। এসব কঠিন শ্রমে শিশুটি অনীহা প্রকাশ করলে তার ওপর নেমে আসত পৈশাচিক নির্যাতন। সামান্য অজুহাতে প্রতিনিয়ত তাকে মারধর করা হতো। সর্বশেষ ঘটনার দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিক্ষক শিশুটির পায়ে লোহার শিকল বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন চালান। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে এলে তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে এবিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি দল ওই মাদ্রাসায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে হাতেনাতে গ্রেফতার এবং শিশুটিকে শিকলবন্দি দশা থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। 
এদিকে সন্তানের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ও পায়ে শেকল দেখে শিশুটির মা রতœা বেগম রোববার আড়ংঘাটা থানায় মামলা করেন। একই দিন রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হালিমুর রহমান বলেন, শিশুটির এক পায়ে শেকল পরিয়ে একটি মুগুরের সঙ্গে তালা দেওয়া হয়েছিল। অন্য পা খোলা থাকায় সে ওই অবস্থাতেই পালিয়ে বাড়ি যেতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের শিশু নির্যাতনের ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের সতর্ক করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ