খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৯ জুলাই ২০২৬ | ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

সুন্দরবনের বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্য আত্মসমর্পন, এক জেলে উদ্ধার

মোংলা প্রতিনিধি |
০৩:১৪ পি.এম | ০৯ জুলাই ২০২৬


অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য। এসময় তাদের হাতে অপহৃত ১৫ দিন যাবত জিম্মি থাকা এক জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) সকালে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনে মোংলা বেইজে আনুষ্ঠানিক ভাবে তারা আত্মসমর্পণ করেন। এসময় জেলা প্রশাসক প্রতিনিধি, র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন।

কোস্ট গার্ড জানায়, আবার অন্ধকার জগত থেকে আলোর পথে ফিরে আসছে সুন্দরবনের দস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য। আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মাদ মেসবাউল ইসলাম’র হাতে জমা দেয় ডাকাত সদস্যরা।

কোস্ট গার্ড বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলশ্রæতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আত্মসমর্পণকারী ডাকাত আলামিন হোসেন (৪০) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানা, তৈবুর রহমান (২৪) সাতক্ষীরা জেলার তালা থানা এবং মনিরুজ্জামান মামুন (২০) খুলনার জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। এর আগে গেল ২১ মে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের আত্মসমর্পণ করে সুন্দরবনের আরেক কুখ্যাত ডাকাত দলের সরদার ছোট সুমন সহ বাহিনীর ৭ সদস্য।

জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেকে পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোস্ট গার্ডের বিসিজিএস কামরুজ্জামান নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মো: মানসুর মাহদীন বলেন, সুন্দরবনে দস্যুদমন নামের অভিযানের প্রেক্ষিতে গত ১২ ফেব্রয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগান গোলা ও ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় ৪২ জন বনদস্যুকেও আটক করা হয়েছে। এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এছাড়াও সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমনসহ তার সহযোগীসহ সর্বমোট ৭ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করেছে।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মেজবাউল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের নিরলস অভিযান এবং কঠোর অবস্থানের কারণেই সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো অনেকাংশে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সুন্দরবনের সকল সক্রিয় ডাকাতদের দস্যুবৃত্তি পরিহার করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর নিকট আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে ইচ্ছুক, আত্মসমর্পণের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ প্রদান করা হবে। অন্যথায়, যারা আত্মসমর্পণ না করে অপরাধমূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতির আলোকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একইসাথে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। সরকারের নির্দেশনা, স্থানীয় সকলের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদ ব্যাক্ত করেণ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কর্মকর্তা। 
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ