খুলনা | শুক্রবার | ১০ জুলাই ২০২৬ | ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

খুলনায় উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি কিশোরীর পরিচয় মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক |
১১:২৩ পি.এম | ০৯ জুলাই ২০২৬


নগরীর নিরালা প্রান্তিকা এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহের পরিচয় মিলেছে। নিহত আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) নগরীর সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। সে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা আলীম হোসেন আকাশের মেয়ে। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সংবাদ দেখে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে নির্জনাকে শনাক্ত করেন তার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা।
এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর রোডের একটি ৭ তলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দি কিছু পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। কেননা, সেই বস্তা থেকে তাজা রক্ত বের হচ্ছিল। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
সুরতহাল প্রস্তুতকারী পুলিশের এসআই লাভলী পাল বলেন, নির্জনার মাথার ডান ও বাম পাশে আঘাত এবং গভীর ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় কালো একটি দাগও রয়েছে।
নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন মীম বলেন, বুধবার দুপুরে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে সবার অজান্তে নির্জনা বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। যাওয়ার আগে নির্জনা একটি চিঠি লিখে যায়। তাতে লেখা ছিল, আমার কোনো খোঁজ খবর তোমরা নিওনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবেশীর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের মরদেহের ছবি দেখে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে শনাক্ত করেন।
নির্জনার মা বলেন, গত ২১ এপ্রিল নির্জনা বাড়ি থেকে পালিয়ে তেরখাদা উপজেলার পালেরহাট আজগরা গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনিকে বিয়ে করে। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, ছেলেটির চরিত্র ভালো নয়। ১৭ দিন পর নির্জনাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু ওই ছেলে নির্জনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।
আরিফা ইয়াসমিন মীমের সন্দেহ, রনি তার মেয়েকে ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে হত্যা করে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে গেছে।
খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, একজন পুরুষ মোটরসাইকেল চালিয়ে এসে একটি প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে রেখে যায়। নির্জনার মাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
খুলনা সদর থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকান্ডটি নিরালা ও প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা বা এর আশপাশে ঘটতে পারে। এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ