খুলনা | শুক্রবার | ১০ জুলাই ২০২৬ | ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রতারণার মামলায় কারাগারে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা সোহেলকে সাময়িক বরখাস্ত

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৭ এ.এম | ১০ জুলাই ২০২৬


প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালী মডেল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মোঃ সোহেল উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে তাকে সরকারি কর্ম থেকে বিরত রাখা আবশ্যক ও সমীচীন বিবেচনায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯ (১) ধারার বিধান অনুযায়ী গত ১ জুলাই থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তাকে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হবে। এ সময় তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপনে সই করেন।
এর আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দুই কোটি ৩২ লাখ ১১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় সোহেল উদ্দিনের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
গত ১ জুলাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার ইভা মামলার বাদী সহকারী কর কমিশনার মোসাঃ তানজিনা সাথীর আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত ৯ জুন একই আদালত সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দন্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।
বাদীপক্ষের আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট আপস-মীমাংসার শর্তে জামিন পেলেও দীর্ঘ সময়েও সোহেল উদ্দিন কোনো সমঝোতার উদ্যোগ নেননি কিংবা প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়ন করেননি। এ কারণে তার জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী এড. আবুল কালাম খান আদালতে দাবি করেন, তার মক্কেল বাদীর কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি এবং তাকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সহকারী কর কমিশনার মোসাঃ তানজিনা সাথী।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালে ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বাদী ও সোহেল উদ্দিনের পরিচয় হয়, যা পরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্র“তি দিয়ে তিনি বাদী ও তার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রয়োজনে মোট দুই কোটি ৩২ লাখ ১১ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরে তিনি বাদীকে বিয়ে করেননি এবং নেওয়া অর্থও ফেরত দেননি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ