খুলনা | শনিবার | ১১ জুলাই ২০২৬ | ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

দেশে ফিরে রাজকীয় সংবর্ধনা পেল মিসরের ফুটবলাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৬:১৩ পি.এম | ১০ জুলাই ২০২৬


বিশ্বকাপ থেকে মিসরের বিদায়টা ছিল হৃদয়ভাঙা। তবু দেশের মানুষের চোখে মোহামেদ সালাহ, মোস্তাফা জিকোরা এখন জাতীয় বীর। নিজেদের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে দেশে ফিরেছে মিসরের ফুটবলাররা। দেশে ফিরে রাজকীয় সংবর্ধনা পেয়েছেন তাঁরা।

প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে শুক্রবার দেশে ফিরেছে মিসর। ফুটবলারদের স্বাগত জানাতে আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভীড় জমান হাজারো সমর্থক। জাতীয় পতাকা, দেশাত্মবোধক গান আর ‘মিসরের ছেলেরা আমাদের গর্বিত করেছে’ লেখা ব্যানারে মুখর ছিল পুরো এলাকা। অনেকের হাতেই ছিল অধিনায়ক সালাহর ছবি, যার নিচে লেখা ছিল, ‘ধন্যবাদ।’

বিমানবন্দর থেকে মিসরের ফুটবলাররা ছাদ খোলা বাসে নিউ আলামেইন শহর প্রদক্ষিণ করে। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন তাঁরা। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের আগামীকাল সংবর্ধনা দেবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি।

চারবারের চেষ্টায় এবারই প্রথম বিশ্বকাপে জয়ের দেখা পায় মিসর। শুধু তাই নয়, প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোতেও পা রখে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর সেরা ৩২-এ টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ে মিসর।

তবে শেষ রাউন্ড অব সিক্সটিনে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক লড়াইয়ের পর বিদায় নিতে হয় মিসরকে। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ১৩ মিনিটে তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় হোসাম হাসানের দল। তবু দেশের ফুটবল ইতিহাসে সেরা বিশ্বকাপ উপহার দেওয়ায় দেশে ফিরেই বীরের মর্যাদা পেল দলটি।

সংবর্ধনায় উপস্থিত অনেক সমর্থকের হাতে ছিল প্রধান কোচ হোসামের বড় পোস্টার, যেগুলো ফিলিস্তিনের পতাকায় মোড়ানো ছিল। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানানোয় তাঁকে এভাবে সম্মান জানান সমর্থকেরা। মিসরের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হোসাম টুর্নামেন্টে একাধিকবার মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন এবং সংবাদ সম্মেলনেও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সরব ছিলেন।

এদিকে দল দেশে ফেরার আগেই হোসাম এবং তাঁর যমজ ভাই ইব্রাহিম হাসানের চুক্তির মেয়াদ নবায়ন করেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। নতুন চুক্তি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে সূত্রের দাবি, ২০৩০ সাল পর্যন্ত দলের সঙ্গে কাজ করবেন তাঁরা।

২০২৪ সালে মিসরের দায়িত্ব নেন হোসাম। এরপর থেকেই দলটির চিত্র পাল্টে যেতে শুরু করে। তাঁর অধীনে দলটি ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে খেলেছে, আট বছর পর জায়গা করে নেয় বিশ্বকাপের মূল পর্বে। এই কোচের অধীনে এখন পর্যন্ত ২০ জয়ের পাশাপাশি ৯ ম্যাচে ড্র করেছে মিসর।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ