খুলনা | শনিবার | ১১ জুলাই ২০২৬ | ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

নির্বাচনী এলাকা-৪, পাইলট প্রকল্প এমপি হেলালের

বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কৃষি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম খুব শিগগিরই

রূপসা প্রতিনিধি |
০১:০৭ এ.এম | ১১ জুলাই ২০২৬


বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষকদের সরকারি সহায়তা, কৃষি উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সেবা আরও সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া এই উদ্যোগের পাইলট প্রকল্পে দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলার সঙ্গে খুলনার রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 
জানা গেছে, গত ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আব্দুর রহিমকে এ বিষয়ে সার্বিক নির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলালের সঙ্গে মহাপরিচালকের বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক এবং কৃষকদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। 
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালের আন্তরিক প্রচেষ্টা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের ফলে তার নির্বাচনী এলাকার কৃষকদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আজিজুল বারী হেলাল তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের কল্যাণে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অন্যান্য খাতে উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছেন। এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি যে কাজ করে যাচ্ছেন, কৃষি কার্ড বিতরণের পাইলট প্রকল্পে খুলনা-৪ আসনের তিনটি উপজেলার ৩টি ব্লকে (তিনটি ওয়ার্ডে একটি ব্লক) অন্তর্ভুক্তি তারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু জানান কৃষি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম তিনটি উপজেলায় শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ কার্ডের আওতায় সকল কৃষককে আনা হবে।
কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে চলতি জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে এমপি হেলালের নির্বাচনী এলাকা রূপসা উপজেলার ৬৭৫ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি করে বীজ, ৫ কেজি করে ডিএপি সার এবং ১০ কেজি করে এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে। 
দিঘলিয়া উপজেলার ৫০০ কৃষক এর মধ্যে প্রত্যেককে ১০ কেজি করে ডিএপি এবং এমওপি ও ৫ কেজি করে বীজ বিতরণ করা হয়েছে। তেমনি তেরখাদা উপজেলার প্রায় ৭০০ কৃষকের মধ্যে উক্ত কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে ।
বিশেষ করে কৃষকদের সমস্যা, তাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে তাঁর উদ্যোগকে এলাকার কৃষক সমাজ ইতিবাচকভাবে দেখছেন। কৃষকরা যেন সহজে সরকারি কৃষি সহায়তা, প্রণোদনা, উন্নত প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন সে লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট মহলে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, কৃষি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি কৃষিসেবা ও সহায়তা আরও সহজে পাবেন। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এই ব্যাপারে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে বিভিন্ন বক্তব্যে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। তখন কিছু মহল এটিকে অপব্যাখ্যা করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রমাণিত হচ্ছে, কৃষকের কল্যাণে এই উদ্যোগ একটি বাস্তবমুখী ও জনবান্ধব পদক্ষেপ। কৃষকরা আমাদের দেশের প্রাণ। কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী কৃষকদের সরকারি সহায়তা সহজলভ্য করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকরা যেন সহজে সরকারি সহায়তা, কৃষি উপকরণ, প্রণোদনা ও প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন, সেটিই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। খুলনা-৪ আসনের রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলার কৃষকরা যেন এই সুবিধার আওতায় দ্রুত আসতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হচ্ছে। কৃষকদের মুখে হাসি ফোটানো, কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। কৃষকদের পাশে থেকে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ জনকল্যাণমূলক প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। প্রকৃত কৃষকরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সরকারি সুবিধা পান এবং কৃষির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হয়, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। 
এ ব্যাপারে খুলনা জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ বলেন, কৃষকরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে কৃষি কাজ পরিচালনা করে আসছেন। এই এলাকায় কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সহায়তা, সার, বীজ, কৃষি উপকরণ ও বিভিন্ন প্রণোদনা সহজে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
রূপসা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান বলেন, কৃষকদের উন্নয়ন ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে কৃষি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগের পাইলট প্রকল্পে রূপসা, তেরোখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি কৃষি সহায়তা, প্রণোদনা ও বিভিন্ন সেবা আরও সহজ ও স্বচ্ছভাবে পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম বলেন, বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতিশ্র“তির অন্যতম লক্ষ্য ছিল কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ সেই প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। খুলনা-৪ আসনের তিনটি উপজেলা এই প্রকল্পের আওতায় আসায় এলাকার কৃষকরা উপকৃত হবেন। কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কৃষি খাতের উন্নয়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 
এ ব্যাপারে রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের পিঠাভোগ গ্রামের কৃষক আবু সাঈদ এ প্রতিনিধিকে জানান নির্বাচনের পূর্ব থেকে কৃষি কার্ডের কথা শুনে আসছি। কৃষি কার্ড পেলে আমরা নগদ টাকা সহ কৃষি উপকরণ সহজে আমরা পাব। এতে কৃষকদের বেশ উপকারই হবে । তিনি বলেন অনেক সময় কৃষকরা মাঠে ফসল ফলিয়ে সঠিক ভাবে দামটিও পায় না । কৃষি কার্ডের সহযোগিতা পেলে আমাদের অনেকের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে। তেরখাদা উপজেলার কালিনগর গ্রামের কৃষক রনজিত বিশ্বাস জানান, কৃষি কার্ড পেলে আমাদের সহজ শর্তে উক্ত কার্ডের মাধ্যমে কৃষি ঋণ পেতেও সুবিধা হবে যা পূর্বে ছিল না।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ