খুলনা | শনিবার | ১১ জুলাই ২০২৬ | ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়, আদালতে দায় স্বীকার মায়ের, পুলিশ হেফাজতে বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:০৭ এ.এম | ১১ জুলাই ২০২৬


নগরীর সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফান হোসেন নির্জনা (১৭) হত্যার ঘটনায় মা সীমা আক্তার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। একই ঘটনায় নিহতের বাবা মোঃ আলীম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম সীমা আক্তারের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
খুলনা সদর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মোঃ আঃ সাত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মায়ের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সীমা আকতার বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি মেয়েকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। ঘরের ভেতর শোরগোল শুনে বাবা আলীম হোসেন আকাশ এসে তাঁদের উভয়কে চুপ করতে বলেন।
সীমা আকতারের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ে চুপ না থাকায় একটি কাঠের চলা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সীমা আকতার আরও বলেন, এরপর বাবা ঘরের ভেতরে থাকা ছেড়া লুঙ্গি দিয়ে মুড়িয়ে লাশটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে বেঁধে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে যান।
সীমা আকতার বলেন, গত ২১ এপ্রিল পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তেরখাদা উপজেলার আজগড়া এলাকার একটি ছেলেকে বিয়ে করায় নির্জনার ওপর তাঁরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। বিয়ের ১৭ দিন পর তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। বুধবার সকালে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য নির্জনা বাড়ি থেকে বের হয়। পরে তাকে বুঝিয়ে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে নির্জনার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারে পরদিন বৃহস্পতিবার কিশোরীর মা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহ সনাক্ত করেন এবং মেয়েটির স্বামী তাকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন। অথচ ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই ঘটনার মোড় ঘুরে গেল।
এর আগে, গত বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে নগরীর সদর থানাধীন নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সাততলা ভবনের সামনে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মরদেহের ছবি দেখে হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন তার মা। নির্জনা নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
ঘটনার পর প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, চলতি বছরের ২১ এপ্রিল নির্জনার বিয়ে হয় এবং তার স্বামী তাকে হত্যা করে থাকতে পারেন। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও পুলিশের তদন্তের আওতায় আসেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার করা আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে মা-বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এর আগে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন নিহত মেয়েটির মা সকালে স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে স্বীকারোক্তি দিতে চাইলে শুক্রবার দুপুরের পর তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
এর আগে ওসি জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্জনাকে অন্য কোথাও হত্যা করে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নিরালা প্রান্তিকা এলাকায় ফেলে রাখা হয়। হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সব দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।
এদিকে, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) মিডিয়া সেল জানিয়েছে, এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য জানাতে শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় কেএমপি সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ