খুলনা | রবিবার | ১২ জুলাই ২০২৬ | ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

আর্জেন্টিনাকে যে কৌশলে থামাতে চায় সুইজারল্যান্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০২:০৮ পি.এম | ১১ জুলাই ২০২৬

 

ভ্যাঙ্কুভারের সেই জাদুকরি রাতের পর পুরো সুইজারল্যান্ডে এখন শুধুই উৎসবের আমেজ। টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে ‘নাটি’। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠের সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি যেন নতুন করে ফিরে এসেছে ২০২৬ বিশ্বকাপে।

তবে এবার সুইসদের সামনে আল্পস পর্বতের চেয়েও বড় এক চ্যালেঞ্জ, যেখানে প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কানসাস সিটির ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আর তুমুল আর্দ্রতার মাঝে এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের অপেক্ষা।

২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছেই অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। সেদিন শেষ মুহূর্তে ব্লেরিম জেমাইলির হেডটি গোলপোস্টে লেগে ফিরে না এলে ম্যাচের ভাগ্য অন্যরকম হতে পারত।

সেই হারের কষ্ট এখনো মনে বয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রানিত জাকা আর রিকার্দো রদ্রিগেজ। বর্তমান স্কোয়াডের এই দুই অভিজ্ঞ ফুটবলারের সামনে এবার এসেছে সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার এক মহিমান্বিত সুযোগ। অধিনায়ক জাকা যেমনটা বলছিলেন, ‘২০১৪ সালের হার আমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছিল, সেবার আমরা প্রায় তাদের ধরে ফেলেছিলাম।’ এবার সেই অধরা স্বপ্ন ছোঁয়ার পালা।

মাঠের লড়াইয়ের বাইরে, সাইডলাইনে দাঁড়ানো প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিনকে নিয়ে তৈরি হয়েছে আলাদা উন্মাদনা। নিজের স্টাইলিশ পোশাক, ধূসর চুল আর চশমার কারণে সামাজিক মাধ্যমে তিনি ‘মায়ামি ইয়াকিন’ নামে খ্যাতি পেয়েছেন।

তবে ইয়াকিনের আসল শক্তি তাঁর কৌশল। কলম্বিয়া ম্যাচে পেনাল্টি ঠেকিয়ে নায়ক বনে যাওয়া গ্রেগর কোবেল গোলপোস্টের নিচে এখন এক দুর্ভেদ্য দেয়াল। মাঝমাঠে জাকা ও রেমো ফ্রয়লারের জমাট রসায়ন প্রতিপক্ষের আক্রমণকে থামানোর মূল অস্ত্র। ম্যাচটির গুরুত্ব ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে স্ট্রাইকার ব্রিল এম্বোলো স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘সম্ভবত এটি আমার, আমাদের দল এবং পুরো জাতির জন্য সর্বকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলা হতে যাচ্ছে।’

সুইসদের এই অদম্য আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি জোগাচ্ছে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দুর্বলতা। আলবিসেলেস্তেরা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হলেও, এবারের টুর্নামেন্টে তারা অতি মাত্রায় লিওনেল মেসির ওপর নির্ভরশীল। মেসির ঝুলিতে ৮টি গোল থাকলেও, কেপ ভার্দে কিংবা মিসরের মতো দলের বিপক্ষে যেভাবে আর্জেন্টিনা ধুঁকেছে, তা সুইসদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। জেমাইলি যথার্থই বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনার রয়েছে অসাধারণ কিছু একক তারকা, কিন্তু সুইজারল্যান্ডের আছে একটি সংগঠিত দল।’

২০২২ বিশ্বকাপে পর্তুগালের কাছে বড় ব্যবধানে হারার পর থেকে আজ অবধি কোনো বড় আসরের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সুইজারল্যান্ড কোনো ম্যাচ হারেনি, যা তাদের ধারাবাহিকতার প্রমাণ। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে শেষবার যখন কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল সুইজার‍্যাল্যান্ড, তখন গোল বন্যাই দেখেছিল। লাউসানের সেই বিখ্যাত ‘হিট ব্যাটল’ ম্যাচে প্রচণ্ড গরমে অস্ট্রিয়ার কাছে ৭-৫ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা। সাত দশক পরে এসে আজ আবারও এক প্রতিকূল আবহাওয়ায় তাদের দিতে হচ্ছে আরেকটি বড় পরীক্ষা।

মুরাত ইয়াকিনের রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা আর অধিনায়ক জাকার ইস্পাতকঠিন নেতৃত্ব কি পারবে লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপের রথকে থামিয়ে দিতে? কানসাস সিটির উত্তপ্ত মাঠে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা জয়টি তুলে নেওয়ার জন্য সুইজারল্যান্ড এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ