খুলনা | রবিবার | ১২ জুলাই ২০২৬ | ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

কেএমপি'র প্রেস ব্রিফিং

প্রেম মানতে না পারায় মেয়েকে লাঠির আঘাতে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৩:০১ পি.এম | ১১ জুলাই ২০২৬


খুলনায় প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে ১৬ বছর বয়সি মেয়ে আরফানা হোসেন নির্জনাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর অজ্ঞাত এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই ও সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় শুক্রবার (১০ জুলাই) খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। জানা যায়, নিহত কিশোরী সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা। পরে তার বাসায় গিয়ে মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। প্রথমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে নির্জনার মা দাবি করেন, নির্জনা অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন এক বিবাহিত ছেলের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেছিল। বর্তমানে রনি নামে আরেক ছেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সে তিন দিন বাড়ির বাইরে ছিল। আর এটি নিয়েই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়।

ঘটনার রাতে মা ও মেয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সিমা মেয়েকে মারধর করেন। পরে পাশের কক্ষ থেকে বাবা আকাশ একটি কাঠের বাতা এনে আঘাত করলে সেটি নির্জনার মাথায় লাগে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। 

এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা-মা অভিযুক্ত হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্ত অপর আসামি মেয়েটির বাবাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (পিপিএম-সেবা) মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এম এম শাকিলুজ্জামান, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ রেজাউর রহমান, অতিঃ ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মোঃ শফিকুল ইসলাম, , জনাব খুলনা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং খুলনাস্থ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ