খুলনা | রবিবার | ১২ জুলাই ২০২৬ | ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

আর্জেন্টিনাকে বিদায় করার ব্লু প্রিন্ট ফাঁস!

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৫:৪৫ পি.এম | ১১ জুলাই ২০২৬

 

একটি ম্যাচ কখনো শুধু জয়-পরাজয়ের গল্প বলে না, কখনো সেটি ভবিষ্যতের জন্য রেখে যায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কেপ ভার্দের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স নিয়ে ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এরপর রাউন্ড অফ ১৬- এ মিসরের সঙ্গেও খেই হারিয়ে জিতে আলবিসেলেস্তেরা। অপেক্ষাকৃত কম শক্তির দলও যেভাবে চাপ তৈরি করতে পেরেছে, তা প্রতিপক্ষ কোচদের জন্য বড় কৌশলগত সূত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ফাইনালের পথে প্রশ্ন উঠছে যদি সামনে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড বা অন্য শক্তিশালী দল আসে, তাহলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সেই চাপ কতটা সামলাতে পারবে?

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার দূর্বলতা বের হয়ে আসে। আলবিসেলেস্তেদের সবচেয়ে বড় সমস্যা প্রতিভার ঘাটতি নয়, বরং ম্যাচের উচ্চ গতি ধরে রাখার সক্ষমতা। পুরো ম্যাচজুড়ে দ্রুত পাস, শারীরিক শক্তি এবং নিরন্তর প্রেসিংয়ের মাধ্যমে কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনার রক্ষণ ও মাঝমাঠের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়েছে। ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে ৩-২ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা (মেসির গোল, লিসান্দ্রো মার্টিনেজের গোল এবং ডিনে বোর্গেসের আত্মঘাতী গোলে)।

তাতে ধারনা করা হচ্ছে, যে দল ৯০ মিনিট ধরে একই তীব্রতায় খেলতে পারবে, তারা আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে সক্ষম। বিপরীতে, যদি প্রতিপক্ষ ধীরগতির ফুটবল খেলে এবং লিওনেল মেসিকে সময় ও জায়গা দেয়, তাহলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে রাখতে পারে স্কালোনির দল।

খাদের কিনারা থেকে মিসরের বিপক্ষে রক্ষা (রাউন্ড অফ ১৬)
শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষেও আর্জেন্টিনা নাটকীয় কামব্যাক করেছে। ২-০ পিছিয়ে থেকে ৩-২ জয় (ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, মেসি এবং এনজো ফার্নান্দেজের গোলে)। মিসরের খেলার ধরন কেপ ভার্দের মতো আক্রমণাত্মক নয়; তারা সাধারণত রক্ষণ শক্ত রেখে পাল্টা আক্রমণ খোঁজে। মোহাম্মদ সালাহ এখনো সেরা ছন্দে নেই। তাই ধারণা করা হয়েছিল, মিসর ঝুঁকি নেবে না। কিন্তু ম্যাচটি অত্যন্ত নাটকীয় হয়েছে এবং বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা চলছে।

কোয়ার্টার ফাইনাল: সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পরীক্ষা
বর্তমানে আর্জেন্টিনার সামনে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড। সুইসরা কলম্বিয়াকে পেনাল্টিতে হারিয়ে এসেছে এবং প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে (১৯৫৪ সালের পর)। তারা সংগঠিত, শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং উচ্চ গতির ফুটবল খেলতে পারে। যা আর্জেন্টিনার দুর্বলতা কাজে লাগাতে পারে। তবে আর্জেন্টিনা এখনো শিরোপার অন্যতম দাবিদার। কিন্তু লিওনেল স্কালোনির বড় প্রশ্নের জায়গা রক্ষণের দূর্বলতা এবং মিডফিল্ডারদের গতি কম। ফলে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বড় পরীক্ষা দিতে হবে মেসিদের।

ফ্রান্স, ইংল্যান্ড বা অন্য শক্তিশালী দল হতে পারে বড় পরীক্ষা
সেমিফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নরওয়ে বা ইংল্যান্ড। ফ্রান্সের মতো দল (গতি, শারীরিক শক্তি, গভীর স্কোয়াড) কেপ ভার্দে বা মিসরের দেখানো পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর করতে পারে। ইংল্যান্ডের উচ্চগতির আক্রমণও চ্যালেঞ্জ ছুড়বে।

স্কালোনির কৌশলই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি
তবে এক-দুটি ম্যাচের কারণে আর্জেন্টিনাকে দুর্বল ভাবার সুযোগ নেই। লিওনেল স্কালোনির অধীনে দলটি এখনো বিশ্বের সবচেয়ে সংগঠিত ইউনিটগুলোর একটি। দ্রুত ওয়ান-টু টাচ পাস, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং হঠাৎ গতি বাড়িয়ে রক্ষণ ভাঙা, এটাই তাদের ভিত্তি। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের পজিশন পরিবর্তন মেসিকে জায়গা করে দেয়। ৩৯ বছর বয়সী মেসির জন্য এটি সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ। তিনি এখনো ম্যাচ পাল্টে দিতে পারেন।

সেমিফাইনাল ও ফাইনালের সম্ভাবনা
টুর্নামেন্টের সমীকরণ ঠিক থাকলে সেমিতে নরওয়ে/ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে ফ্রান্স বা স্পেনের মতো দল আসতে পারে। আর্জেন্টিনা এখনো শিরোপার অন্যতম দাবিদার, কিন্তু কেপ ভার্দে ও মিসরের ম্যাচ দুটি সতর্কবার্তা দিয়ে গেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্বলতা বড় সমস্যা নাও হতে পারে, তবে পরের ধাপে উচ্চগতির দল এলে স্কালোনির কৌশল এবং মেসির নেতৃত্বকেই সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ