খুলনা | রবিবার | ১২ জুলাই ২০২৬ | ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

স্কুল গেটের সামনে বাঁশ রেখে ব্যবসা চরম ঝুঁকিতে শিশু ও পথচারীরা

এস এস সাগর, চিতলমারী |
১১:৫৭ পি.এম | ১১ জুলাই ২০২৬


বাগেরহাটের চিতলমারীর ব্রহ্মগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনে ও আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে হাজার হাজার বাঁশ রেখে বিক্রি করা হচ্ছে। স্কুলের সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর অপরিকল্পিত ভাবে ভ্যান, নসিমন ও ট্রাকে বাঁশ লোড-আনলোড করায় বিদ্যালয়গামী শিশু শিক্ষার্থী ও পথচারীরা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। একারণে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বাঁশ রাখার কারণে অনেক সময় সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। বিষয়টি থেকে পরিত্রাণ পেতে তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।
জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে সবজি মৌসুমের শুরুতে চরবানিয়ারী ইউনিয়নের ব্রহ্মগাতী, দুর্গাপুর এবং সন্তোষপুর ইউনিয়নের দড়িউমাজুড়সহ বিভিন্ন রাস্তার দুই পাশে বাঁশ রেখে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা কেনাবেচা হয়। এ বছর ব্রহ্মগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনেও নতুন করে বাঁশ রেখে বিক্রি শুরু হয়েছে।  ফলে রাস্তার ওপর দিন-রাত ভ্যান-নসিমন ও ট্রাকে বাঁশ লোড-আনলোড করা হচ্ছে। এতে যানজট লেগে থাকে। স্কুল চলাকালীন সময়ে গেটের সামনে বাঁশ ওঠানামা করাতে সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিতে পড়েছে বিদ্যালয়গামী শিশু শিক্ষার্থীরা। এতে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। 
ব্রহ্মগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিসান শেখ, স্বর্ণা ফরাজী জানায়, মহাসড়কের পাশে তাদের স্কুলটি। তাই স্কুল গেটের সামনে বাঁশ ওঠানামা করায় রাস্তা পারাপার হতে তাদের খুব ভয় লাগে।
ব্রহ্মগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক সোহেল সুলতান ও মোঃ বশির ফরাজী জানান, স্কুল গেটের সামনে বাঁশ লোড-আনলোডের কারণে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে পারে। তাই তাঁরা সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। 
ব্রহ্মগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামেলেন্দু গোলদার বলেন, ‘স্কুল গেটের সামনে এ ভাবে বাঁশ বিক্রি করায় শিশু শিক্ষার্থী ও আমাদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। আমরা এ থেকে পরিত্রাণ চাই।’    
নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের পাশে ঝুঁকিতে বাঁশ বাণিজ্য না করে নির্দিষ্ট কোন বড় মাঠে বাঁশের হাট করা উচিত। এই বাঁশের কারণে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পথচারিদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানান, স্কুলের পক্ষ থেকে কেউ তাঁকে বিষয়টি অবহিত করেননি। অভিযোগ পেলে তিনি ব্যবস্থা নিবেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ