খুলনা | রবিবার | ১২ জুলাই ২০২৬ | ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

পরিবেশ রক্ষায় সকলের বৃক্ষরোপণ করা অপরিহার্য : ড. ফরিদ

খুলনায় উদ্বোধনী দিনে বৃক্ষপ্রেমিদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত ছিল মেলা

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০১:২৩ এ.এম | ১২ জুলাই ২০২৬


বৈরী আবহাওয়া হলেও উৎসবমুখর পরিবেশে খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন হয় গতকাল শনিবার। বিকেলে উদ্বোধনী দিনে মেলার স্টলগুলোতে বৃক্ষপ্রেমিদের উপস্থিতি একেবারে কমতি ছিল না। তবে বেচাকেনা মোটামুটি হলেও নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পদচারণা ছিল মেলার স্টলগুলোতে। আবার কেউ কেউ প্রিয়জনকে নিয়ে মেলায় এসেছিলেন তাদের পছন্দের গাছের চারা কিনতে। 
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মেলার প্রধান ফটকের বাম পাশে রয়েছে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। যেখানে পাওয়া যাবে মেলা সংক্রান্ত ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত।  
‘বৃক্ষরোপণে  সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতি বছরের ন্যায় মাসব্যাপী খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১০টি স্টলসহ মোট ৬২টি স্টল রয়েছে। 
নার্সারী মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্টলগুলো পরিপাটি করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ নার্সারীতে পানি জমে থাকায় ফলজ, বনজ, ভেষজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধণকারী গাছের চারা স্টলে উঠাতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে স্টলে বিভিন্ন ধরণের গাছের চারা ভরপুর করে রাখা হবে। স্টলে যখন সব ধরনের গাছের চারা রাখা হবে তখন দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ভীড় বাড়তে শুরু করবে। এতে বাড়বে বেচাকেনা। 
মেলায় কথা হয় রূপসা উপজেলা নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা রূপালী নার্সারির মোঃ আল-আমিন খা’র সাথে। তিনি বলেন, তারা মেলায় নতুন স্টল দিয়েছেন। বেচাকেনার ব্যাপারে জানতে বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ নার্সারীতে পানি জমে রয়েছে। পানি জমে থাকায় নার্সারী মালিকেরা গাছের চারা আনতে একটু দেরি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ক্রেতারা কমবশি আসছে। তবে বেচাকেনা একটু কম। তাদের নার্সারীতে বারি ফুট, রেট ক্রিস্টাড জাতের আমের চারা, ভিয়য়েতনামী জাতের মাল্টাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধির গাছের চারা রয়েছে। 
কথা হয় মেসার্স নাজিফা নার্সারি মোঃ সাকিবুল হাসানের সাথে। তিনি বলেন, বেচাকেনা এখনো তেমন শুরু হয়নি বৈরী আবহাওয়ার কারণে স্টলগুলোতে চারা উঠাতে একটু দেরি হচ্ছে। তার স্টলে শোভাবর্ধণকারী ইয়াডেনিয়াম, গোল্ডেন হুক ক্যাকটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। একই ভাবে কথা হয় নিজাম নার্সারির মোঃ নিজাম শেখের সাথে। 
তিনি বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়বে। বেচাকেনাও ভালো হবে। তার স্টলে  থাই বাতাবি লেবু, থাই কদবেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা উঠানো হয়েছে। এছাড়া কুসুম কানন নার্সারি মোঃ জাকির হোসেন, গোলাপ কানন নার্সারির শেখ মোঃ আলাউদ্দিন, অনি নার্সারির মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ নার্সারির মোঃ আব্দুল মালেক, মেসার্স মৌসুমী নার্সারির গাজী কামরুজ্জামানের সাথে কথা হলে তাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নার্সারীতে পানি জমে থাকায় চারা উঠাতে একটু দেরি হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে স্টলে চারা দ্রুত উঠানো সম্ভব হবে। অপরদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি রয়েছে মোটামুটি।    
খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠান গতকাল শনিবার সার্কিট হাউজের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বৃক্ষমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সকলের বৃক্ষরোপণ করা অপরিহার্য। জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে জোরদার করতে হবে। সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। সকল সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও সংস্থা মিলে গত ২ জুলাই পর্যন্ত এক কোটি ৭০ লাখের মত গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাস্তার দু’পাশে গাছের চারা রোপণ করে সবুজ বিপ্লব শুরু করেছিলেন। তারই ধারবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাছের চারা রোপণ করে সবুজ বিপ্লব শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ও জলাবদ্ধতার ক্ষতির কারণ হলো পলিথিন। পলিথিন বন্ধে সকলের সচেতন হতে হবে। আমাদের পরিবেশটি কিন্তু অনেকটা বিপন্ন। এখন কাজ হলো বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশটাকে উন্নত করা। বর্তমান সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সফল করতে হবে। দুই কোটির মত কেওড়া গাছ লাগানো হবে। গাছ হলো আমাদের পরম বন্ধু। একদিকে অর্থকরী ফসল অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। প্রতিমন্ত্রী সকল খালি জায়গায় ফলজ, বনজ, ঔষধি, শোভাবর্ধনসহ সবধরণের গাছ লাগাতে সকলের প্রতি আহŸান জানান।
খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন, সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক ড. মনিরুজ্জামান, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম ও নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ বদরুল আলম রয়েল।  স্বাগত বক্তৃতা করেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান। জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করেন। বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উপলক্ষে এর আগে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে খুলনা কালেক্টরেট চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ