খুলনা | সোমবার | ১৩ জুলাই ২০২৬ | ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

নরওয়ে রূপকথার ইতি, বেলিংহামের গোলে সেমিতে ইংল্যান্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৬:৩০ এ.এম | ১২ জুলাই ২০২৬


নকআউটের মঞ্চে বড় খেলোয়াড়েরা নিজেদের আলাদা করে চেনান। জুড বেলিংহামও সেটিই করলেন। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরানোর পর অতিরিক্ত সময়ে এনে দিলেন জয়সূচক গোল। তাঁর জোড়া গোলেই নরওয়ে রূপকথার ইতি টেনে ২-১ ব্যবধানের জয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। সর্বশেষ তারা শেষ চারে খেলেছিল ২০১৮ বিশ্বকাপে

মায়ামিতে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ম্যাচের শুরুতে বলের দখল ছিল ইংল্যান্ডের। কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও এগিয়ে যেতে পারেনি টমাস টুখেলের দল। বরং প্রথম বড় সুযোগ থেকেই গোলের দেখা পায় নরওয়ে।

৬ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের পাস পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢোকেন আন্দ্রেয়াস শেলডেরুপ। তাঁর বাঁ পায়ের বুলেট গতির শট পোস্টে লেগে জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। ৪৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারত কারা। কিন্তু আলেক্সান্দার সরলোথ ফাঁকায় থাকা আর্লিং হালান্ডকে পাস না দিয়ে কেন নিজে শট নিতে গেলেন, সেটা তিনিই বলতে পারবেন।

তবে বিরতির আগেই সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের পাস ধরে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে ওরিয়ান নাইল্যান্ডকে পরাস্ত করেন জুড বেলিংহাম।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল নরওয়ের হাতেই। ৫৫ মিনিটে কর্নার থেকে তোরবিয়র্ন হেগেম বল জালে জড়ালেও হালান্ডের করা ফাউলের কারণে ভিএআরের সহায়তায় গোল বাতিল করেন রেফারি। এরপর অস্কার বব, আন্তোনিও নুসা ও হালান্ডকে ঘিরে একের পর এক আক্রমণ চালায় নরওয়ে। ৭৬ মিনিটে কর্নার থেকে ক্রিস্টোফার ভাসবাক আজারের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে হালান্ডের শটও জালের বাইরে লাগে।

শেষ দিকে বুকায়ো সাকার ক্রস থেকে ইংল্যান্ডও জয়ের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ফ্রেডরিক আউরেস্নেসের ক্লিয়ারেন্সে রক্ষা পায় নরওয়ে। ফলে ১–১ সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিট।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করা মুহূর্ত। ৯৩ মিনিটে মর্গান রজার্সের দূরপাল্লার শট নাইল্যান্ড ঠিকমতো ধরে রাখতে পারেননি। ফিরতি বল পেয়ে সহজেই জালে ঠেলে দেন বেলিংহাম। বিশ্বকাপে এবারের আসরে এটি তাঁর ষষ্ঠ গোল। মাত্র ২৩ বছর ১২ দিন বয়সে টানা দুই বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার তিনি। তাঁর চেয়ে কম বয়সে এই কীর্তি গড়েছিলেন পেলে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৭ বছর ২৪৯ দিন বয়সে টানা দুই নকআউট ম্যাচে একাধিক গোল করেছিলেন ব্রাজিল কিংবদন্তি।

এরপর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় নরওয়ে। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে ‘ভাইকিং রূপকথা’ শেষ হলো কোয়ার্টার ফাইনালে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ