খুলনা | সোমবার | ১৩ জুলাই ২০২৬ | ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

আহত বাঘিনী সুস্থ হয়ে ফিরে গেল সুন্দরবনে

রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি |
০৪:৫০ পি.এম | ১২ জুলাই ২০২৬


হরিণশিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে আহত হওয়া একটি বাঘিনী দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবারও তার প্রাকৃতিক আবাসে সুন্দরবনে ফিরে গেছে। আজ রোববার (১২ জুলাই) সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত থেকে বাঘিনীটি অবমুক্ত করেন।

১০ ফুট দীর্ঘ ও ৬ ফুট চওড়া একটি সবুজ রঙের বাক্সের স্লাইডিং দরজাটি যখন ওপরে তোলা হলো, কয়েক মুহূর্তের জন্য চারপাশ স্তব্ধ হয়ে যায়। আন্ধারমানিকে শ্যালা নদীর তীরে জড়ো হওয়া উৎসুক জনতার সবার চোখ ছিল সেই বাক্সের দিকে। সবাই মুঠোফোনের ক্যামেরা তাক করে রেখেছিলেন সেই মুহূর্তটি ধারণ করতে।

এরপর খাঁচার ভেতর থেকে উঁকি দেয় বাঘিনীটির মাথা। গতকাল রাতে অবশ করার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জ্ঞান ফেরায় বাঘিনীটিকে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। শুরুতে বাইরে আসতে অনীহা দেখালেও প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর সে খাঁচা থেকে বের হয়। ১১ বছর কাটানো সেই পরিচিত ম্যানগ্রোভ বনের দিকে তাকিয়ে এক লাফে নিজের স্বাধীন জীবনে ফিরে যায় বাঘিনীটি।

গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হয়।

ওই দিন বন বিভাগ পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকি খাল এলাকায় বাঘিনীটি ফাঁদে আটকা পড়ার তথ্য পায়। পর দিন বন বিভাগের কর্মকর্তারা বাঘিনীটিকে চেতনানাশক প্রয়োগের পর ফাঁদ কেটে মুক্ত করেন ও লোহার খাঁচায় করে খুলনার পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে বাঘিনীটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে।

বাঘ অবমুক্ত করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এই বাঘ  বনের প্রাণী তাকে বনেই মানাবে। সে সুন্দরবনে ফিরে গেছে। আমরা আমাদের বন বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞ যে, তারা গত ছয় মাস আগে বাঘের যে পায়ে যে ইনজুর হয়েছিল তা সুস্থ করতে পেরেছে। আপনারা অবগত আছেন যে হরিণ শিকারের জালে বাঘটি আটকা পড়ে। তখন ওখান থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বাঘটি অনেক বেশি লাফালাফি করছে যার জন্য তার চামড়াসহ অন্যান্য কিছু শরীর ছিড়ে গেয়েছিল। অনেক ধরনের ট্রিটমেন্ট পরীক্ষা নিরীক্ষা করে গত ছয় মাস তাকে অবজার্ভে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে আমাদের এক্সপার্ট টিম যারা আছেন তারা আবার পরীক্ষা করছেন যে বাঘটিকে সুন্দরবনে ফিরিয়ে দিলে সে আবার শিকার  করতে পারবে কিনা। তার সেই সক্ষমতা আছে আছে, তাই আজ বাঘটিকে অবমুক্ত করা হলো।

​বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করণের এই বিশেষ মুহূর্তে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল এবং বাঘটির চিকিৎসায় গঠিত বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিমের প্রধান ভেটেরিনারি সার্জন ড. আনিসুর রহমান।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বনের গভীরে অবমুক্ত করার পর বাঘিনীটির গতিবিধি ও নিরাপত্তার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে বনের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রাথমিকভাবে ২০টি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া বাঘিনীটি বনে অবমুক্ত হওয়ার পর আগামী এক বছর তার সার্বক্ষণিক দেখাশোনার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে চারটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ