খুলনা | সোমবার | ১৩ জুলাই ২০২৬ | ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্টজনদের শোক

সংসদ চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার

বিশেষ প্রতিবেদক |
০১:৪৫ এ.এম | ১৩ জুলাই ২০২৬


স্বজন, দীর্ঘদিনের সহকর্মী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং সর্বস্তরের মানুষের অশ্র“সিক্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে নির্ধারিত স্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক স্পিকার ও বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।
সংসদ ভবনের যে অঙ্গনে তিনি বহু বছর সংসদ পরিচালনা করেছেন, সেই প্রাঙ্গণেই চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ায় শেষ বিদায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। 
রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদের টানেলে মরহুমের নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে সমাহিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল­ী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি, সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডাঃ মোঃ শফিকুর রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, আইনজীবী, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শুভানুধ্যায়ী এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ তাঁর জানাজায় অংশ নেন।
জানাজার আগে ও পরে প্রিয় এই রাজনীতিকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত মানুষের চোখে ছিল অশ্র“, কণ্ঠে ছিল মাগফিরাতের দোয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সংসদীয় জীবনের সহকর্মীরা স্মরণ করেন তাঁর প্রজ্ঞা, সৌজন্য, বিনয় ও গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের কথা।
দোয়া ও অশ্র“সিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দেশের এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক, প্রথিতযশা আইনজ্ঞ ও সংসদীয় গণতন্ত্রের এক নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবকের শেষ যাত্রার আনুষ্ঠানিকতা। তাঁর বিদায়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সংসদীয় পরিম-লে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব এএসএম বাহাউদ্দিন, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বিএনপি’র পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপবৃন্দ এবং সংসদ সচিবালয়ের পক্ষে সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। 
এর আগে রোববার ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর শ্যামলীর স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন সাবেক স্পিকার ও বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।’ তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। জমির উদ্দিন সরকার স্মরণে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম অর্ধবেলা (দিনের দ্বিতীয় ভাগ) বন্ধ ছিল।
জমির উদ্দিন সরকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক মন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিএনপি’র মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, জমির উদ্দিন সরকারের জানাজা তিন দফায় প্রথমে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে, হাইকোর্টে এবং পরে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে হাসপাতাল থেকে জমির উদ্দিন সরকারের মরদেহ তাকওয়া মসজিদে গোসলের জন্য নেওয়া হয়। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় জমির উদ্দিনের ধানমন্ডির বাসায়।
জানাজা ও দাফন : সংসদ সচিবালয়ের বরাতে বাসস জানায়, জমির উদ্দিন সরকারের জানাজা রোববার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সংসদ ভবনে নির্ধারিত চত্বরে তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও অন্যদের শোক : জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাসস জানায়, রোববার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী জমির উদ্দিন সরকারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম আধাবেলা বন্ধ : ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার স্মরণে রোববার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম অর্ধবেলা (দিনের দ্বিতীয় ভাগ) বন্ধ ছিল। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টের কার্যক্রমও বন্ধ ছিল। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিএনপি’র শোক : আজ সোমবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশব্যাপী বিএনপি’র পক্ষ থেকে একদিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকাসহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে ও নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ পরবে।
জীবনী : ১৯৩১ সালে ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জমির উদ্দিন সরকার।  তার বাবা মৌলভী মুহম্মদ আজিজ বক্স এবং মা বেগম ফখরুন্নেছা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে বিএ অনার্স, এমএ ও পরবর্তীকালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করেন। পরে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-এট-ল সনদ লাভ করেন। তিনি এক মেয়ে ও দুই ছেলের জনক। তার ছেলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নওশাদ জমির ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয়ী হন।
দেশে ফিরে ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে জমির উদ্দিন সরকার সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি পান।
ছাত্রজীবনে, ১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। পরে ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের রাজনীতির যুক্ত হন।
১৯৭১ সালে হাই কোর্টের আইনজীবীদের যে গ্র“পটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, জমির উদ্দিন সরকার তাদের অন্যতম।
জমির উদ্দিন সরকার ১৯৪৫ সালে ছাত্র থাকা অবস্থায় তৎকালীন ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। পরে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের সমর্থক ছিলেন। তিনি আওয়ামী মুসলিমের লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মাওলানা ভাসানীর সহচর।
জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল বা জাগদল গঠন করলে তাতে যোগ দেন জমির উদ্দিন সরকার। পরে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। আমৃত্যু তিনি বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
আইন পেশায় সুনাম ও খ্যাতি অর্জন করায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তাকে পাঁচবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান। দল গঠনের প্রথম পর্যায়ে জিয়াউর রহমান জাগদল গঠন করলে তিনি তাতে যোগ দেন। তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল বা জাগদলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য। পরে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।
জমির উদ্দিন সরকার ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন দিনাজপুর-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৫ ফেব্র“য়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ, ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদে বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
যেসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন : জমির উদ্দিন সরকার ১৯৮১ সালের ৬ এপ্রিল থেকে ১৯৮১ সালের ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বর্তমান সংসদ ভবনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন।
আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় ১৯৮১ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে ১১ ফেব্র“য়ারি ১৯৮২ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পঞ্চম জাতীয় সংসদে খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় ২০ মার্চ ১৯৯১ থেকে ২৮ আগস্ট ১৯৯১ পর্যন্ত ভ‚মি প্রতিমন্ত্রী, ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ থেকে ১৯ মার্চ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে গঠিত স্বল্পকালীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ৩০ মার্চ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তত্ত¡াবধায়ক সরকার বিল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেন।
জমির উদ্দিন সরকার ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৬ সালে বিএনপি’র সেই সরকারের মেয়াদ শেষে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত¡াবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। জরুরি অবস্থার সেই সময় পেরিয়ে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন হয় এবং তাতে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে নবম সংসদের নতুন সদস্যদের জমির উদ্দিন সরকারই শপথ পড়ান। নতুন স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ওই বছর ২৫ জানুয়ারি জমির উদ্দিন সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়।
২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।
তার লেখা বইয়ের মধ্যে আছে ‘গণতন্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ’, ‘এক নজরে সংসদ সম্পর্কিত বিধিবিধান’, ‘লন্ডনে শিক্ষা জীবন’, ‘দি ল অব দি সি’, ‘লন্ডনে ছাত্র আন্দোলন’, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উত্তরণ ও ডিগবাজি’, ‘পল রাজ থেকে পলাশী এবং ব্রিটিশ রাজ থেকে বঙ্গভবন’, ‘ল অব দি ইন্টারন্যাশনাল রিভারস এ্যান্ড আদার ওয়াটারকোর্স’।
জমির উদ্দিন সরকারের স্ত্রী নূর আখতার ২০২৩ সালে মারা যান। মেয়ে নিলুফার জমির এবং দুই ছেলে নওশাদ জমির ও নওফেল জমিরকে রেখে গেছেন তারা। বড় ছেলে নওশাদ জমির বর্তমানে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য।
বিএনপি’র এই প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং আইন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহকর্মীদের অনেকে শোক যানাতে তার ধানমন্ডির বাসায় যান।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ