খুলনা | সোমবার | ১৩ জুলাই ২০২৬ | ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

উদ্বোধনী দিনে অর্ধ লক্ষ টাকার চারা বিক্রি

দ্বিতীয় দিনে স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের চোখে পড়ার মত উপস্থিতি

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০১:৪৫ এ.এম | ১৩ জুলাই ২০২৬


জমতে শুরু করেছে খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা। গতকাল রোববার বিকেলে মেলার দ্বিতীয় দিনে স্টলগুলোতে নারীদের উস্থিতি বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমন মন্তব্য করেছেন বিক্রেতারা (স্টল মালিক)। মেলায় কেউ এসেছেন গাছের চারা কিনতে, আবার কেউ এসেছেন প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরতে। মেলায় কেউ এসেছেন প্রিয়জনকে নিয়ে পছন্দের গাছের চারা কিনতে। কেউ এসেছেন ঘুরতে। স্টলগুলোতে শোভা পাচ্ছে টবে ঝুলিয়ে রাখা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা। গতকাল মেলার দ্বিতীয় দিনে স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল বেশ চোখে পড়ার মত। মেলার প্রথম দিনে বনজ, ফলজ, ঔষধি, শোভাবর্ধনকারী, ফুলের ও অন্যান্য মিলে অর্ধ লক্ষ টাকার গাছের চারা বিক্রি হয়েছে।         
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রথম দিনে শনিবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। ফলে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারাও বিক্রি হয়েছে কম। গতকাল রোববার আহাওয়া ভাল থাকায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল যথেষ্ট। এতে নার্সারী মালিকরা বলেছেন, প্রথম দিন আবহাওয়া খারাপ থাকায় বেচাকেনা ভাল হয়নি, তবে দ্বিতীয় দিনে আবহাওয়া ভাল থাকায় দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশ ভালই দেখা যাচ্ছে।
মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত মোঃ জাকির হোসেন সময়ের খবরকে বলেন, মেলার প্রথম দিনে বৈরী আবহাওয়া কারণে চারা কম বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম দিনে বনজ ৪টি, ফলজ ৬৭টি, ঔষধি ৪৭টি, শোভাবর্ধনকারী ১১৯টি, ফুলের ১১৬টি ও অন্যান্য ১৭টি গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। এতে সর্বমোট ৫০ হাজার ৮১০ টাকা চারা বিক্রি হয়েছে। 
মেলায় কথা হয় নগরীর বয়রা এলাকার বাসিন্দা মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ জাহিদুল ইসলামের সাথে। তার ছেলেকে নিয়ে মেলার এসেছেন। একটি বারিফুট আম গাছের চারা কিনেছেন আড়াই হাজার টাকা দিয়ে। মেলায় এসে তার ভালো লেগেছেন এমন মন্তব্য করেছেন। 
একইভাবে কথা আজিজুল ইসলামের সাথে। তিনি নগরীর গল­ামারী এলাকা থেকে এসেছেন। দুই হাজার টাকা দিয়ে একটি রেডক্রিস্টাড আম গাছের চারা কিনেছেন। তিনি বলেন, বৃক্ষমেলায় গাছের চারা কেনার সুবিধা অনেক। প্রথমত গাছের চারা দামে কম। দ্বিতীয়ত বিভিন্ন জাতের চারা পাওয়া যায়। 
কথা হয় নগরীর জিরোপয়েন্ট এলাকার বাসিন্দা মোঃ মোজাহিদুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ‘বনসাই গাছের চারা কিনতে এসেছি কিন্তু পাওয়া যায়নি।’ তিনি বলেন, মেলার স্টলগুলোতে এখনো অনেক গাছের চারা উঠানো হয়নি।        
মাসব্যাপী খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১০টি স্টলসহ মোট ৬২টি স্টল রয়েছে। প্রত্যেকটি স্টল বরাদ্দ হয়েছে এবং স্টলগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা ও বাহারি রঙের ফুলের চারা।  
নগরীর বয়রার নূরনগর এলাকার নয়নতারা নার্সারির মোঃ আলতাফ হোসেন বলেন, প্রথম দিনের তুলনায় বেচাকেনা বেড়েছে। ক্রেতাদের উপস্থিতিও বেড়েছে। তিনি বলেন, ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, মেলায় নারীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি।  
নগরীর আহসান আহমেদ রোডস্থ রানা নার্সারি মোঃ জহুর  শেখ বলেন, মেলায় ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। নার্সারী মালিকরা পর্যাপ্ত গাছের চারা স্টলে সাজিয়ে রাখছেন। 
কথা হয় নগরীর কৈয়া, হোগলাডাঙ্গা দরগাতলা এলাকার এবিসি নার্সারির সমজীত দাসের সাথে। তিনি বলেন, প্রথম দিনের তুলনায় বেচাকেনা একটু বেড়েছে। তিনি বলেন, বৃষ্টিপাত কম হলে নার্সারী মালিকেরা স্টলে চারা বেশি উঠাতে পারবে। এতে বেচাকেনাও বাড়বে। 
রূপসার নন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া নার্সারির মোঃ জাকির মুন্সি বলেন, মেলায় ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। 
বন অধিদপ্তর বন্যাপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনা মেলায় একটি ব্যতিক্রম স্টল দিয়েছেন। যেখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রাণির কঙ্কাল। 
মেলায় রয়েছে একটি ম্যানগ্রোভ নার্সারী। যেটি খুলনা মহানগরীর মুজগুন্নি এলাকার বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগের।  
এদিকে মেলার স্টগুলোতে শোভাবর্ধনকারী ইয়াডেনিয়াম, গোল্ডেন হুক ক্যাকটাস, থাই বাতাবি লেবু, থাই কদবেল, বাহারী রঙের ফুলের চারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ, ঔষধি, শোভাবর্ধনকারী, ফুলের ও অন্যান্য ফুলের চারা সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ