খুলনা | মঙ্গলবার | ১৪ জুলাই ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

বেড়েছে ক্রেতাদের উপস্থিতি, বিক্রিতেও খুশি নার্সারী মালিকরা

নানা বাহারি ফলজ ও বনজ গাছ ও চারার সমারোহ বৃক্ষমেলায়

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০১:৪০ এ.এম | ১৪ জুলাই ২০২৬


বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও বিক্রি বেড়েছে খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলায়। মেলায় বেড়েছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। মেলার দ্বিতীয় দিন রোববার দেড় লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে স্টলগুলোতে বিভিন্ন নানা বাহাড়ি ফলজ ও বনজ গাছ ও চারা উঠাচ্ছেন নার্সারী মালিকরা। 
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সোমবার বিকেলে মেলার স্টলগুলোতে ছিল ক্রেতাদের অনেক ভীড়। দিন যত বাড়ছে চারা বেশি বিক্রি হচ্ছে। স্টল মালিকরা তাদের নার্সারী থেকে রিক্সা-ভ্যানে করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা আনছেন স্টলগুলোতে। মেলায় সকল বয়সী নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা মেলায় আসছেন পছন্দের চারা কিনতে। কেউ চারা কিনছেন। আবার কেউ তাদের প্রিয়জনদের নিয়ে মেলার স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে পছন্দের চারা দেখছেন। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে ব্যস্ততা। গত তিন দিনের জরিপে শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা বেশি বিক্রি হয়েছে। সোমবার দুপুরে আবহাওয়া খারাপ থাকলেও বিকেলে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মেলায় দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপস্থিতিও বেশি ছিল।  
মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বেতার অপারেটর এ প্রতিবেদককে বলেন, মেলার দ্বিতীয় দিনে বনজ ৭১টি, ফলজ ২৭৯টি, ঔষধি ৬৭টি, শোভাবর্ধনকারী ৩৩২টি, ফুলের ২৫৮টি ও অন্যান্য ৮৬টিসহ মোট এক হাজার ৯৩টি গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। এতে সর্বমোট এক লক্ষ হাজার ৭১ হাজার ৯৬০ টাকার চারা বিক্রি হয়েছে। 
নগরীর রায়ের মহল এলাকার সামছুর রহমান মেলায় আসেন গাছের টারা কিনতে। তিনি বলেন, দুইটি মাল্টা, একটি পেয়ারা ও তিনটি ফুলের চারা কিনেছেন। চারা কিনে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বৃক্ষমেলায় এসে গাছের চারা কেনার মজায় আলাদা। 
ফকিরহাটের খাজুরা গ্রামের মাসুম বিল্লাহ মেলায় আসেন চারা কিনতে। তিনি বলেন, মাত্র মেলায় এসেছি। স্টলগুলোতে ঘুরে ঘুরে আম গাছের চারা কিনতে হবে।  
নগরীর চাঁনমারি এলাকা থেকে মেলায় আসেন শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, কিছু মাল্টা, বাতাবি লেবু ও ফুলের চারা কেনার জন্য মেলায় এসেছি। তিনি বলেন, গত বছরও বৃক্ষমেলা থেকে গাছের অনেক চারা কিনেছি। তবে মেলায় কম দামে চারা কিনতে পাওয়ায় যায়। এমনও মন্তব্য করেছেন তিনি। 
মাসব্যাপী খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১০টি স্টলসহ মোট ৬২টি স্টল রয়েছে। 
নন্দনপুর মোজাম নার্সারীর সাকিবুল হাসান বলেন, দিনদিন ক্রেতাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেচাও বাড়ছে। নার্সারী মালিকরা তাদের নার্সারী থেকে স্টলে বেশি করে চারা উঠাচ্ছেন। তিনি বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে চারাও বেশি বিক্রি হবে।   
কুসুম কানন নার্সারীর মোঃ জাকির হোসেন বলেন, মেলায় ক্রেতাদের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। গাছের চারাও বিক্রিও বাড়ছে।  
অনি নার্সারির জাকির মুন্সি বলেন, মেলায় ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। বেচাকেনাও বাড়ছে। তিনি বলেন, দুপুরে আবহাওয়া খারাপ থাকলেও বিকালে আবহাওয়া ভাল থাকায় ক্রেতাদের উপস্থিতি যেমন বেশি ছিল তেমন চারা বিক্রিও বাড়ছে। 
মেলাকে প্রাণবন্ত করতে নগরীর মুজগুন্নি এলাকার বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগ স্টলটি পরিপাটি করে সাজিয়ে রেখেছে। 
মেলার স্টলগুলোতে বিভিন্ন জাতের নারিকেল, সুপারি, থাই বাতাবি লেবু, থাই কদবেল, পেঁপে, কাঠবাদাম, বাহারী রঙের ফুলের চারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ, ঔষধি, শোভাবর্ধনকারী, ফুলের ও অন্যান্য ফুলের চারা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। 
খুলনা নার্সারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু মাসুদ বলেন, বর্তমানে অতি বৃষ্টি ও অতি খরার মতো জলবায়ুগত পরিবর্তনের কারণে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। বৃক্ষমেলা শুধু গাছ কেনার জন্য নয়। এ বছর মেলায় মোট ৬২টি স্টলের মধ্যে ৫৭টি স্টলে সব ধরনের গাছ রয়েছে। এখানে বারান্দা ও ছাদবাগানের উপযোগী গাছ, কাঠের গাছ, ফলজ গাছ, ফুলের গাছসহ নানা ধরনের গাছ পাওয়া যাচ্ছে।
খুলনা নার্সারী মালিক সমিতির সভাপতি বদরুল আলম রয়েল বলেন, এবারের মেলায় ফলজ, বনজ, ওষুধিসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। আমরা ভালো মানের চারা সরবরাহের চেষ্টা করছি। এ বছর প্রায় ২০ লাখের বেশি চারা নিয়ে মেলা শুরু করেছি। এখনও প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ চারা আসা বাকি রয়েছে। মেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আরও চারা আসতে থাকবে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৃক্ষমেলা হচ্ছে খুলনার এই মেলাটি। মাসব্যাপী এ ধরনের বৃক্ষমেলা আর কোথাও হয় না। উল্লেখ্য, শনিবার খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে জেলা প্রশাসন ও সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে। মাসব্যাপী এই মেলা চলবে আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সকলের জন্য উন্মুক্ত।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ