খুলনা | রবিবার | ২৬ জুলাই ২০২৬ | ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

কালিগঞ্জের একাধিক মামলার আসামি হেমায়েত ও সহযোগিদের গ্রেফতার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১২:১০ এ.এম | ১৫ জুলাই ২০২৬

 
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দুদলী গ্রামের সন্ত্রাসী সৈয়দ হেমায়েত আলী (ছোট বাবু) ও তাঁর সহযোগিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। একই সাথে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা জমি দখল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের আব্দুর রাজ্জাক পার্কস্থ শহিদ মিনারের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি জানান। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী গ্রামের মৃত শেখ আজিজুর রহমানের মেয়ে হয়রানির শিকার ক্ষতিগ্রস্ত মোছাঃ নাজমিন সুলতানা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দুদলী গ্রামের মৃত মীর রমজান আলীর ছেলে সৈয়দ হেমায়েত আলী ১০/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ওই বাহিনীর সদস্যরা জমি ও মৎস্যঘের দখল, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ, বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর, চাঁদা দাবি, নারী নির্যাতনসহ নানা ধরনের অপকর্ম করে চলেছে। তাদের এই অন্যায় কর্মকান্ডের কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাজমিন সুলতানা বলেন, হেমায়েত আলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থাকাকালে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে এলাকায় সমালোচিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ ব্যক্তিদের বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করছেন। এতে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের ভয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তার এসব বিতর্কিত কর্মকান্ড এলাকায় রাজনৈতিক দলটির ভাবমূর্তিও ক্ষুণœ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় স¤প্রতি সৈয়দ হেমায়েত আলী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক সেনাসদস্য নাসির উদ্দীনের পরিবারের ওপর হামলা, চাঁদা দাবি ও বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগে কালিগঞ্জ থানায় একটি মামলা রয়েছে। 
তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ছোট বোন তানিয়া সুলতানা, যিনি একজন পরিবার কল্যাণ সহকারী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে সৈয়দ হেমায়েত আলী ও আওরঙ্গজেবের হামলার শিকার হন। তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় এবং মারধর করা হয়। পরে তিনি চিকিৎসা নেন এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, এতো গুরুতর অভিযোগ ও মামলা থাকা সত্তে¡ও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে এলাকায় চলাফেরা করছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জহির রায়হানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ করা হয় তিনি মামলার প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেননি এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধারা বাদ দিয়েছেন, যা সুষ্ঠু বিচারপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে হেমায়েত আলী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক আইননক ব্যবস্থা গ্রহণ, দায়ের করা মামলাগুলোর সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জহির রায়হানকে প্রত্যাহার করে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ, এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করা, অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং অভিযোগের বিষয়ে হেমায়েতের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৭ দফা দাবি জানানো হয়। 
সংবাদ সম্মেলনে নাজমিন সুলতানা বলেন, তাঁরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযোগগুলো তুলে ধরছেন। প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহŸান জানান তিনি।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ