খুলনা | বুধবার | ১৫ জুলাই ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

বৃক্ষমেলায় দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে বিভিন্ন ‘বনসাই’ গাছ

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০২:৩২ এ.এম | ১৫ জুলাই ২০২৬


বৃক্ষমেলায় গেলে যেকোনো ‘বনসাই’ গাছের কথা কম-বেশি অনেকের মনে পড়ে থাকে। যারা বৃক্ষপ্রেমি তাদের এ গাছের কথা হয়তো বেশি মনে পড়ে। খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলায় ‘মেসার্স নাজিফা নার্সারী’ ও ‘গ্রীণ হাট’ নামক স্টলে  শোভা পাচ্ছে ‘বনসাই’। নাজিফা নার্সারী ও গ্রীণ হাট স্টলে প্রদর্শন করা বটগাছ বনসাই ও কামিনী বনসাই গাছ নজর কেড়েছে ক্রেতা, দর্শনার্থী ও বৃক্ষপ্রেমিদের। 
তথ্যমতে, বনসাই (Bonsai) শব্দটি জাপানি হলেও, এর উৎপত্তি প্রাচীন চীনে। খ্রিস্টপূর্ব ২০০ অব্দে হান রাজবংশের সময় চীনে ‘পেনজাই’ (penzai) বা ‘পেনজিং’ নামে ছোট পাত্রে গাছ লাগানোর প্রচলন শুরু হয়। পরবর্তীতে দ্বাদশ শতাব্দীতে জাপানে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের মাধ্যমে এই শিল্পটি বিস্তার লাভ করে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। মূলত, বড় কোন গাছ বা গুল্মের শাখা-প্রশাখা ও শিকড় ছাঁটাই এবং তারের সাহায্যে বেঁধে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে একটি অগভীর পাত্রে তার ক্ষুদ্র সংস্করণ তৈরি করাই হল বনসাই। এটি কোন বংশগত বামন গাছ নয়, বরং পরিচর্যার মাধ্যমে একটি সাধারণ গাছকে ছোট করে রাখার শিল্প। জাপানি ভাষায় ‘বন’ (Bon) অর্থ পাত্র এবং সাই (sai) অর্থ গাছ। যার আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় ‘পাত্রে রোপণকৃত গাছ’। বনসাই কোনো নির্দিষ্ট গাছের নাম নয়। এটি মূলত যেকোনো বড় গাছকে ছাঁটাই এবং বিশেষ কৌশলে টবে ছোট করে রাখার একটি জাপানি শিল্প।
গতকাল মঙ্গলবার মেলার চতুর্থ দিন বিকেলে খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলায় স্টলগুলোতে বেশ ভীড় ছিল। তবে নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ ছিল মুখরিত। তবে মেলার স্টলগুলোতে সকল বয়সী মানুষের উপস্থিতি বেশি থাকলেও অধিকাংশরা মেলায় এসেছেন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখতে। তবে মেলায় ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক বেশি। কেউ কেউ তার প্রিয়জনকে নিয়ে মেলায় এসেছেন ঘুরতে। আবার কেউ সেলফি তুলতে আবার কেউ বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করতে। বিভিন্ন স্টলগুলোতে ক্রেতা ও স্টল মালিকরা যেন ব্যস্ত সময় পার করছেন। 
নাজিফা নার্সারীর মোঃ সাকিবুল হাসান বলেন, ‘বনসাই’ গাছটির বয়স প্রায় দশ বছর। এ বনসাই গাছটির দাম চাওয়া হয়েছে  ৪/৫ হাজার টাকা। বনসাই গাছটি দেখতে অনেকেই ভীড় জমিয়েছেন।  
গ্রীন হাট নামক স্টলে একটি পাত্রে রাখা হয়েছে কামিনী বনসাই গাছ। এ ব্যাপারে স্টল মালিক মোঃ সাব্বির আহমেদ বলেন, কামিনী বনসাই গাছটির বয়স প্রায় ১০ বছর। তিনি বলেন, বাড়িতে বসে বিভিন্ন বনসাই গাছের চারা নার্সিং করা হয়। তিনি বলেন, আমাদের কোনো নার্সারী নেই আমরা বাড়িতে বসে বিভিন্ন গাছের বনসাই কালেকশন করে থাকেন। স্টলে সাজিয়ে রাখা কামিনী বনসাই গাছটির দাম চাওয়া হচ্ছে তিন হাজার টাকা। 
এদিকে গত সোমবার মেলার তৃতীয় দিনে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৫০ টাকার চারা বিক্রি হয়েছে। 
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ