খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৬ জুলাই ২০২৬ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা করতে রাজনীতি আনা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০৫:১০ পি.এম | ১৫ জুলাই ২০২৬


মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার শিকার ও শহীদদের তালিকা করতে গিয়ে রাজনীতি টেনে আনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর মুক্তিযুদ্ধের তালিকা করার দায়িত্ব যাদের ছিল, তারা নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে সেই কাজটি করেনি।, এ অবস্থায় নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়নে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।

আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়।

পিরোজপুর-৩-এর সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে নিবিড় গবেষণার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বিস্তারিত ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে অগণিত মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতার এত বছর পরেও তাঁদের একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। অথচ ওঁদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা অর্জন করেছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার এবং সকল শহীদদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।’

পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম-১ আসন থেকে নির্বাচিত অপর এক সংসদ সদস্যের আরেক সম্পূরক প্রশ্ন করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যেভাবে পরিবর্তিত বা দলীয়করণ হয়, সেই সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ৫৫ বছর পর হলেও একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত তালিকা জাতির সামনে প্রকাশ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা?

এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে স্মরণ করিয়ে দেন, বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দ্বারা গঠিত। যেহেতু একজন সম্মুখ সমরের বীর মুক্তিযোদ্ধার আদর্শে এই দল পরিচালিত, তাই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও দায়িত্ব প্রদর্শনকে সরকার একটি পবিত্র কর্তব্য বলে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে।

তিনি বলেন, অতীতের সরকারগুলোর আমলে তালিকা প্রণয়নে নানা জটিলতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি তৈরি হলেও, বর্তমান সরকার দেশের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে একটি পূর্ণাঙ্গ, সঠিক ও ঐতিহাসিক সত্যভিত্তিক মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ