খুলনা | রবিবার | ২৬ জুলাই ২০২৬ | ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন

শ্যামনগর উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১২:৪২ এ.এম | ১৬ জুলাই ২০২৬


“আজকের একটি বীজ, আগামী দিনের সবুজ উপকূল”- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণের উদ্যোগ (এক মিলিয়ন সিডস প্ল্যান্টেশন ফর কোস্টাল রেস্টোরেশন) বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বুধবার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠিত জনসংগঠন, শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী এসোসিয়েশন, শ্যামনগর গ্রীণ কোয়ালিশন এবং বারসিক যৌথভাবে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।
শ্যামনগর পৌরসভা গ্রীণ কোয়ালিশনের সভাপতি ও নকীপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণানন্দ মুখার্জীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পানখালী এগ্রোইকোলজি লার্ণিং সেন্টারের তত্ত¡াবধায়ক কনিকা রানী। লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল বর্তমানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ¡াস, নদীভাঙন ও জীববৈচিত্র্যর ক্ষয়সহ নানা সংকটের মুখোমুখি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান এখন সময়ের দাবি, এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ১০ লক্ষ দেশীয় বৃক্ষের বীজ সংগ্রহ ও রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 
তিনি আরও জানান, কর্মসূচির আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলের দেশীয় ফলজ ও বনজ প্রজাতির বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং উপযুক্ত স্থানে রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ পুনরুদ্ধারে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে, একটি বীজ থেকে জন্ম নেওয়া একটি বৃক্ষ শুধু সবুজায়নই নয়, বরং কার্বন শোষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটি ও নদীতীর রক্ষা, বন্যপ্রাণির আবাস সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রায় ৪ লক্ষ বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে বাকি বীজ সংগ্রহের কার্যক্রম চলবে। যে কেউ বাবলা, পরশ পেপুল, আম, জাম, কাঁঠাল, নিম, তেঁতুল, তাল, খেজুর, কুল, চটকা, আঁশফল, বট, কাঠবাদাম, অর্জুনসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির বীজ সংগ্রহ করে এ উদ্যোগে দান করতে পারবেন। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকেরা এসব বীজ সংগ্রহ করবেন এবং দাতাদের অবদান নথিভুক্ত করে সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
উপকূলীয় অঞ্চলের সকল নারী, শিক্ষার্থী, তরুণ, কৃষক, জেলে, বনজীবী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি, সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকর্মীদের দেশীয় বীজ সংগ্রহ এবং এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহক্ষান জানান পরিবেশবন্ধু ও বৃক্ষপ্রেমিক রবীন্দ্রনাথ মন্ডল। এসময় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা গ্রীণ কোয়ালিশনের উপদেষ্টা ও  কল্যাণ ব্যানার্জী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম. বেলাল হোসাইন, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনির, প্রেসক্লাব সদস্য এসএম মিজানুর রহমান আনিসুজ্জামান সুমন প্রমুখ।
আয়োজকরা বলেন, এটি কেবল একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সহনশীল ও জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ উপকূল গড়ে তোলার সামাজিক আন্দোলন। সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই উদ্যোগ উপকূলীয় পরিবেশ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ