খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৬ জুলাই ২০২৬ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

বৃক্ষমেলায় দর্শনার্থীদের নজর কাড়লো ক্যাকটাস

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০২:৪৭ এ.এম | ১৬ জুলাই ২০২৬


খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার পঞ্চম দিন অতিবাহিত। গতকাল বুধবার বিকেলে ডালিয়া নার্সারীর স্টলে দেখা মেললো ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদের। ক্যাকটাস কোনো নির্দিষ্ট একটি গাছের নাম নয়। বিখ্যাত উদ্ভিদবিদ ক্যারোলাস লিনিয়াস এ নামকরণ করেন। এটি বিশাল উদ্ভিদ পরিবারের নাম। আদি নিবাস আমেরিকা। এটি প্রধানত শুষ্ক ও মরুভূমি অঞ্চলে জন্মে। বৈজ্ঞানিক নাম ক্যাকটেসি (Cactaceae)। প্রায় ১ হাজার ৭৫০টিরও বেশি প্রজাতি রয়েছে। অনেকে উদ্ভিদটি পছন্দ করেন। প্রায় ১ হাজার ৭৫০ প্রজাতির ক্যাকটাসের মধ্যে ১ হাজার ৭৪৯টি প্রজাতিই শুধু আমেরিকা মহাদেশের স্থানীয়। 
তথ্যমতে, প্রায় তিন কোটি বছর আগে এদের উৎপত্তি হয়। ১৫শ’ ও ১৬শ’ শতাব্দীতে ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা আমেরিকায় গিয়ে এই উদ্ভিদ আবিষ্কার করেন। এর পর তারা এটি ইউরোপে নিয়ে আসেন এবং শোভাবর্ধক গাছ হিসেবে জনপ্রিয় করে তোলেন। কানাডার ঠান্ডা অঞ্চল  থেকে শুরু করে চিলির মরুভূমি পর্যন্ত এরা প্রাকৃতিকভাবে জন্মে। ‘ক্যাকটাস’ শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক শব্দ ‘kaktos’ (ক্যাকটোস) থেকে। এর সহজ অর্থ হল কাঁটাযুক্ত গাছ। 
ক্যাকটাসের কোনো সাধারণ পাতা নেই। গাছের ডাল বা কান্ডগুলো পর্ণকান্ডে (fleshy stems) রূপান্তরিত হয়। এই কান্ডগুলো স্পঞ্জের মত পানি ধরে রাখে। এদের পাতাগুলো রূপান্তরিত হয়ে শক্ত কাঁটায় পরিণত হয়। কাঁটাগুলো গাছকে রোদ থেকে বাঁচায় এবং পশু-পাখির হাত থেকে রক্ষা করে। গাছগুলো দিনের বেলায় মুখ বন্ধ রাখে। রাতে তাপমাত্রা কমে গেলে মুখ খোলে এবং বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে জমিয়ে রাখে। একে বলা হয় CAM (ক্রাসুলেসিয়ান এ্যাসিড মেটাবোলিজম)। 
শত শত বছর ধরে আমেরিকার আদিবাসীরা ক্যাকটাসের ফল ও কান্ড খাদ্য হিসেবে খেয়ে আসছে। অনেক ক্যাকটাস প্রাচীনকাল থেকেই নানা রোগ সারাতে এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমানে ঘরের ভেতরের সৌন্দর্য বাড়াতে (Indoor plants) ক্যাকটাসের বিকল্প নেই। অনন্য গঠন এবং খুব কম পরিচর্যায় বেঁচে থাকার ক্ষমতার কারণে সারা বিশ্বে ক্যাকটাস অত্যন্ত জনপ্রিয়। ক্যাকটাস সাধারণ প্রজাতির ওপর ভিত্তি করে ১০ থেকে ২০০ বছরেরও বেশি সময় বাঁচে। ছোট বা গৃহস্থালির টবের ক্যাকটাস সাধারণত ১০ থেকে ৪০ বছর বাঁচে। তবে মরুভূমি অঞ্চলের বড় ক্যাকটাস ১৫০ থেকে ২০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।
বুধবার মেলার পঞ্চম দিনে খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলায় স্টলগুলোতে ভীড় ছিল চোখে পড়ার মত। নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ ছিল সরব। সকল বয়সী মানুষের উপস্থিতি বেশি থাকলেও অধিকাংশরা মেলায় এসেছেন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখতে। তবে মেলায় ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক বেশি। কেউ কেউ তার প্রিয়জনকে নিয়ে মেলায় এসেছেন ঘুরতে। বিভিন্ন স্টলগুলোতে ক্রেতা ও স্টল মালিকরা যেন ব্যস্ত সময় পার করছেন। 
নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত মোঃ জাকির হোসেন বলেন, মেলার চতুর্থ দিনে বনজ ১২৫টি, ফলজ ৬৩৩টি, ঔষধি ১১৪টি, শোভাবর্ধনকারী ৬৬৭টি, ফুলের ৪৫৯টি ও অন্যান্য ২২৭টি গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। মোট ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৫০ টাকা চারা বিক্রি হয়েছে। 
উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই খুলনা জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ আয়োজিক এ মেলা আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ