খুলনা | শনিবার | ১৮ জুলাই ২০২৬ | ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

খুলনা প্রেসক্লাব আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণে উদ্বিগ্ন নগরবাসী : কেসিসি প্রশাসক

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:৪৮ এ.এম | ১৭ জুলাই ২০২৬


খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় নগরবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে সন্ত্রাসীরা জানিয়ে দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কলম ধরা যাবে না। কিন্তু খুলনার সাহসী সাংবাদিকরা ঘটনার পর থেকেই রাজপথে কর্মসূচি পালন করছেন। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আমরাও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ঘাটতি এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও উদ্বিগ্ন। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে সাংবাদিকদের কর্মসূচির প্রতি আমি একাত্মতা প্রকাশ করছি।
নগরীতে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও বিএনপি সব সময় সাংবাদিকদের পাশে ছিল, আগামীতেও থাকবে। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে। গত দুই বছরে যত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর জন্য দায়ীদের গ্রেফতার করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা কোনো আপস করব না, ছাড়ও দেব না। আমাদের রাজনীতির ছত্রচ্ছায়ায় যেন কোনো সন্ত্রাসী না থাকে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছি। আমরা খুলনার ১০ লাখ মানুষের নিরাপত্তা চাই। মাদকের যে বিস্তার ঘটেছে, তা বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, খুলনা প্রেসক্লাব আমাদের সবার মিলনস্থল। এখানে যারা কাজ করেন, তারা অত্যন্ত সাহসী মানুষ। এই শহরে অনেক ঘটনা ঘটেছে। অনেক সাহসী সাংবাদিককে খুন করা হয়েছে। তারপরও সাংবাদিকরা দমে থাকেননি। তাদের কলম সব সময় প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে। আমি আশাবাদী, এবারও হামলাকারীরা গ্রেফতার হবে। প্রশাসন আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আমরা আহŸান জানাই, খুলনাকে নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা প্রয়োজন, সরকার যেন তা দ্রæত বাস্তবায়ন করে।
খুলনা প্রেসক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার। প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক বেল্লাল হোসেন সজলের পরিচালনায় বক্তৃৃতা  করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন, কোষাধ্যক্ষ বিমল সাহা, কার্যনির্বাহী সদস্য কে এম জিয়াউস সাদাত, ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা, ক্লাব সদস্য গৌরাঙ্গ নন্দী, অমিয় কান্তি পাল, আতিয়ার পারভেজ, মিজানুর রহমান মিলটন, কৌশিক দে, আবুল হাসান হিমালয়, রকিব উদ্দিন পান্নু, মাহবুবুর রহমান মুন্না, এ এইচ এম শামিমুজ্জামান, গাজী মনিরুজ্জামান, এমএ হাসান, শেখ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, সুনীল কুমার দাস, শেখ লিয়াকত হোসেন, মোঃ আনিছুর রহমান কবির।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফউজ জামান, নাগরিক ফোরাম খুলনা কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব এসএম ইকবাল হাসান তুহিন ও পরিবেশ সম্পাদক জিএম মঈন উদ্দিন, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সরদার আবু তাহের, আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর প্রচার সম্পাদক নাজমুল তারেক তুষার। 
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও কাজী শামীম আহমেদ, ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মল্লিক সুধাংশু, ক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য মহেন্দ্রনাথ সেন ও সোহেল মাহমুদ, ক্লাব সদস্য আহমদ মুসা রঞ্জু, আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, এস এম নূর হাসান জনি, মোঃ হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, বাপ্পী খান, দেবব্রত রায়, ইয়াসীন আরাফাত রুমী, আল মাহমুদ প্রিন্স, খলিলুর রহমান সুমন, মোঃ কামরুল হোসেন মনি, দীপংকর রায়, অভিজিৎ পাল, কনক রহমান, কামরুল হোসেন  মনি, শেখ জাহিদুল ইসলাম, মোঃ হুমায়ুন কবীর, রীতা রানী দাস, মোঃ জাকারিয়া হোসেন তুষার, হাসান আল মামুন, বাবুল আকতার, মোঃ রবিউল গাজী উজ্জ্বল, রিতা রানী দাস, এস এম বাহাউদ্দিন, মোঃ সোহেল রানা, তুফান গাইন, ইমাম হোসেন সুমন, শাহজালাল মোল্লা মিলন, মোঃ মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ মাসরুর মুর্শেদ, মোঃ রাজু হাওলাদার,  নূরুল আমিন নূর, মোঃ মাসুম বিল্লাহ ইমরান, মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ হাবিবুর রহমান, ক্লাবের অস্থায়ী সদস্য ফকির শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ। এ ছাড়া এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন খুলনা জেলা শাখা, বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি, নাগরিক ফোরাম খুলনাসহ বিভিন্ন  সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করেন। 
উল্লেখ্য, ১৪ জুলাই মঙ্গলবার রাতে খুলনা শান্তিধাম জাতিসংঘ পার্কের পশ্চিম পাশে বসে থাকা অবস্থায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সেদিন খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য সচিব ও স্টার নিউজের খুলনা ব্যুরো প্রধান রাফিউল ইসলাম টুটুল, প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও এসএ টিভির খুলনা প্রতিনিধি রকিবুল ইসলাম মতি, ক্লাবের অস্থায়ী সদস্য ও দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার খুলনা ব্যুরো প্রধান আওয়াল শেখ এবং দৈনিক আমাদের সময়ের খুলনা প্রতিনিধি সৈয়দ হুমায়ুন কবির রানাসহ বসে থাকা সাংবাদিকদের উপর গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ