খুলনা | রবিবার | ১৯ জুলাই ২০২৬ | ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

অপারেশন নাসর-২: কুয়েত-বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা

খবর প্রতিবেদন |
১১:৪০ পি.এম | ১৮ জুলাই ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-শাখা। আজ শনিবার বিকেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নেভি জানিয়েছে, গত রাত থেকে ইরানজুড়ে চালানো মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ‘অপারেশন নাসর-২’ চালানো হয়। ইরানের এই অভিযানের পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, কুয়েতের আল-আহমাদি বন্দরের জ্বালানি সরবরাহ ডক, শেখ ঈসা বিমানঘাঁটির যুদ্ধবিমান অ্যাসেম্বলি এরিয়া, বাহরাইনের বাতেলকো গোয়েন্দা ডেটা সেন্টার এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সিগন্যাল ও যোগাযোগ কেন্দ্রে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানা হয়েছে। তাদের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান বর্তমানে সামরিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং মার্কিন বাহিনীকে তারা প্রতিটি লড়াইয়ে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

বিবৃতিতে ইরান অভিযোগ করেছে, সামরিক লড়াইয়ে পরাজয় নিশ্চিত জেনে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘যুদ্ধাপরাধের’ পথ বেছে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে তারা ইরানের হাসপাতাল, সেতু, রেলপথ, বিমানবন্দর এবং বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করছে এবং নির্বিচারে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের এই ধ্বংসলীলা থামাতে এগিয়ে না আসায় ইরান পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা উত্তেজনা কিছুটা কমিয়ে ওয়াশিংটনকে তাদের ‘অবমাননাকর নীতি’ পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়ার জন্য কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা সীমিত রেখেছে। এর অংশ হিসেবে কুয়েতের আরিফজান গ্রাউন্ড ফোর্সেস লজিস্টিক সেন্টারে মার্কিন সেনা সমাবেশের স্থান, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির রাডার সিস্টেম এবং একটি অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার ও ড্রোন শেল্টার সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যেসব দেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানোর সুযোগ দিচ্ছে, তাদেরও এখন এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ইরান সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, নিজেদের নাগরিকদের প্রাণ বাঁচাতে এখনই সিভিল ডিফেন্স ইউনিটগুলোকে সক্রিয় করতে হবে এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু থেকে বেসামরিক মানুষদের সরিয়ে নিতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো উসকানির জবাবে ইরান এবার সরাসরি মিত্র দেশগুলোর মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে ধূলিসাৎ করে দিতে দ্বিধা করবে না। যদিও হামলা পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এর মধ্যে আবার হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করে আইআরজিসির নৌ-যোদ্ধারা জানিয়েছেন, তারা এখন পারস্য উপসাগরের প্রতিটি ইঞ্চি নজরদারিতে রেখেছেন। যেকোনো নতুন হামলার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ