খুলনা | রবিবার | ১৯ জুলাই ২০২৬ | ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

হাজার প্রত্ননিদর্শনের ভান্ডারেও দর্শনার্থীর খরা খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরে

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৪৫ এ.এম | ১৯ জুলাই ২০২৬


খুলনার শিববাড়ি মোড়ে অবস্থিত বিভাগীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় এক হাজার মূল্যবান প্রতœনিদর্শন। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ এই সংগ্রহশালা থাকলেও দর্শনার্থীর উপস্থিতি আশানুরূপ নয়। প্রতিদিন গড়ে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ জন দর্শনার্থী জাদুঘরে আসেন।
প্রতœতত্ত¡ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জাদুঘরে খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত প্রতœসম্পদ সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভরত ভায়না বৌদ্ধমন্দির, পীরপুকুর মসজিদ, দমদম পীরস্থান ঢিবি, খানজাহান আলী (রহঃ)-এর বসতভিটা, গলাকাটা মসজিদ, জোড়বাংলা মসজিদ, সাতগাছিয়া মসজিদসহ বিভিন্ন প্রতœস্থানের নিদর্শন। এছাড়া আরবি-ফারসি হস্তলিপি, মাটির প্রদীপ, রাজা সীতারাম রায়ের ব্যবহৃত কাঠের পালঙ্ক, পোড়ামাটির অলংকৃত ইট, মৃৎপাত্র, তামার পাত্র, রৌপ্য মুদ্রা, মূল্যবান পাথরের পুঁতি ও লালমাই-ময়নামতি অঞ্চলের বিভিন্ন প্রতœস্থানের নিদর্শনও রয়েছে।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে কিছু নিদর্শন প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রয়েছে। জাদুঘরে প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ টাকা। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রবেশ ফ্রি। সার্কভুক্ত বিদেশিদের জন্য টিকিট ১০০ টাকা এবং অন্যান্য বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যশোর থেকে আসা দর্শনার্থী জাফর আহমেদ বলেন, ব্যবসায়িক কাজে খুলনায় এসে সময় বের করে জাদুঘর ঘুরতে এসেছি। এখানে এসে দেশের ইতিহাস ও মানবসভ্যতার বিকাশ সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়।
প্রতœতত্ত¡ অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার মোছাঃ আইরীন পারভীন জানান, নতুন প্রতœসম্পদ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজ নিয়মিত চলছে। বিশেষ দিবস ও জাতীয় দিবসে দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য জাদুঘর প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাসফর এবং ইতিহাসভিত্তিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানো গেলে খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরে দর্শনার্থীর সংখ্যা উলে­খযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ