খুলনা | রবিবার | ১৯ জুলাই ২০২৬ | ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৃক্ষমেলা : দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের নজর কাড়লো বারোমাসি পিং কাঁঠাল গাছের চারা

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০২:১৬ এ.এম | ১৯ জুলাই ২০২৬


কাঁঠাল একটি কঠিন ফল হলেও অনেকেই পছন্দ করেন। এর মধ্যে বারোমাসি পিং কাঁঠাল পছন্দ করেন অনেকে। এর কোষগুলো দেখতে খুবই আকর্ষণীয় গোলাপি বা লালচে রঙের হয়ে থাকে। খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষমেলায় একটি স্টলে দৃষ্টিনন্দন এ গাছের চারা নজর কেড়েছে দর্শনার্থী, ক্রেতা ও বৃক্ষপ্রেমিদের। 
সরেজমিন ও প্রাপ্ত তথ্যমতে, বারোমাসি পিং কাঁঠাল (Pink Jackfruit) মূলত থাইল্যান্ডের একটি উন্নত ও জনপ্রিয় জাতের কাঁঠাল। এর ভেতরের কোষগুলো আকর্ষণীয় গোলাপি বা লালচে রঙের হয়। এটি সাধারণত বারোমাসি জাতের হয়। যা সঠিক পরিচর্যায় বছরের যেকোনো সময় ফলন দিতে সক্ষম এবং রোপণের মাত্র ২-৩ বছরের মধ্যেই ফল দিয়ে থাকে। 
সাধারণ কাঁঠালের আদি নিবাস ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালা হলেও পিং কাঁঠাল মূলত থাইল্যান্ডে উদ্ভাবিত এবং বিকশিত একটি বিশেষ জাত। এর স্বাদ সুমিষ্ট। মোটা আঁশ এবং বছরের প্রায় সবসময় ফলনের জন্য এটি বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ ভারত ও বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। 
এটি Moraceae (মুরাসি) বা ডুমুর পরিবারের। Artocarpus (আর্টোকার্পাস) বর্গের এবং Artocarpus heterophyllus প্রজাতির। এটি একটি চিরহরিৎ বৃক্ষ, যার কান্ড ও প্রধান শাখাগুলো থেকে সরাসরি ফল উৎপন্ন হয়। এর পাতাগুলো গাঢ় সবুজ এবং মসৃণ হয়ে থাকে। সাধারণ কাঁঠাল বীজ থেকে উৎপাদিত হলেও, পিং কাঁঠালের মাতৃগুণ অক্ষুণœ রাখতে এবং দ্রুত ফলন পাওয়ার জন্য এটি কলম বা গ্রাফটিং (Grafting) পদ্ধতির মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা হয়। থাইল্যান্ডের এই জাতের ডাল উন্নত কাঁঠালের চারার মূলকান্ড জোড়া লাগিয়ে (V-grafting ev Stone grafting) চারা তৈরি করা হয়। কলমের চারা লাগালে গাছের উচ্চতা সীমিত থাকে, যা ছাদ, বাগান বা ছোট জমিতে চাষের জন্য আদর্শ। এছাড়া মাত্র ১-৩ বছরের মধ্যে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। এটি প্রকারের হলুদ রঙের সুমিষ্ট গ্রীষ্মকালীন ফল। এটি বাংলাদেশের জাতীয় ফল হিসাবে সরকারিভাবে নির্ধারিত। In Dhaka–Plan : Shop বারোমাসি কাঁঠাল চারা এর পরিচয়। এই চারা থেকে উৎপন্ন কাঁঠাল সুস্বাদু, আঁশ মোটা ও মিষ্টি হওয়ায় এটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এর বৈজ্ঞানিক নাম Artocarpus heterophyllus  (ইংরেজি নাম : Jackfruit) মোরাসিয়া পরিবারের আর্টোকার্পাস গোত্রের ফল। এটি বাংলাদেশের জাতীয় ফল হিসাবে সরকারিভাবে নির্ধারিত। বাংলাদেশের সর্বত্র কাঁঠাল গাছ পরিদৃষ্ট হয়। কাঁচা কাঁঠালকে বলা হয় এঁচোড়। কাঁঠাল গাছের কাঠ আসবাবপত্র তৈরির জন্য সমাদৃত। কাঁঠাল পাতা বিভিন্ন প্রাণীর পছন্দের খাদ্য। 
উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের উদ্যোগে চলছে মাসব্যাপী খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১০টি স্টলসহ মোট ৬২টি স্টল রয়েছে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ