খুলনা | সোমবার | ২০ জুলাই ২০২৬ | ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

খুলনার স্কুলছাত্রী নির্জনা হত্যা মামলায় গ্রেফতার পিতাকে জেলহাজতে প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৫:২৪ পি.এম | ১৯ জুলাই ২০২৬

 

খুলনার সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার আকাশকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। রোববার বিকালে তাকে মহানগর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

গ্রেফতার আকাশ নির্জনার পিতা। তিনি সদর থানার মিস্ত্রিপাড়া খালপাড় এলাকার বাসিন্দা মীর সোহরাব হোসেনের ছেলে।

গতকাল শনিবার ডুমুরিয়া বাজার এলাকা থেকে নির্জনার পিতা ও হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন মো. আলীম হোসেন আকাশ (৪০) কে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৬ ও পুলিশের যৌথ টীম। গত ১০ জুলাই নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১১ জুলাই তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দেন তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স¤প্রতি নিজের সিদ্ধান্তে বিয়ে করেছিল আরফানা। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে বুঝিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে আরফানা আবার স্বামীর কাছে যেতে চাইলে, এ নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে প্রায়ই বিরোধ হতো তাঁর। ৮ জুলাই সন্ধ্যায় একই বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মা আরফানাকে মারধর করেন। পরে বাবা কাঠের ফালি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মেয়ের মৃত্যু হয়। মা-বাবা দুজনেই মাদকাসক্ত বলে জানায় পুলিশ।

নিহত আরফানা খুলনা নগরের বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা এবং সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিল।

পুলিশ জানায়, মেয়েকে হত্যার পর প্রমাণ গোপনের লক্ষ্যে মরদেহটি কবুতরের খাবার বহনে ব্যবহৃত একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে আসেন বাবা। পরে সড়কের পাশে পড়ে থাকা বস্তার ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পরের দিন সদর থানার উপ-পরিদর্শক লাভলী আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে আরফানার মা মরদেহ শনাক্ত করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ