খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ জুলাই ২০২৬ | ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত মেলা প্রাঙ্গণ

বৃক্ষমেলায় বৃক্ষপ্রেমি ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে লুবি রংগার

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০২:২১ এ.এম | ২০ জুলাই ২০২৬


খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলায় দর্শনার্থী, ক্রেতা ও বৃক্ষপ্রেমিদের দৃষ্টি কেড়েছে লুবি রংগার বা রুবি লংগান। এ ফলের রঙ গাঢ় লাল বা মেরুন হওয়ায় একে রেড লংগানও বলা হয় এ ফল দেখতে ক্রেতারা ভীড় জমিয়ে ছিল মেলায় করিম নার্সারীর স্টলে। গুটি কলমের মাধ্যমে ছাদবাগান ও জমিতে এর চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লুবি রংগার বা রুবি লংগান (Ruby Longan) মূলত Sapindaceae (সাবানবেরি) গোত্রের একটি উদ্ভিদ। এটি লিচু এবং রাম্বুটান পরিবারের একটি সুস্বাদু ও রসালো ফল। এটি লিচু গোত্রের হলেও এর পাতা ও খোসা টকটকে লাল রঙের হয়। এর স্বাদ লিচুর চেয়েও বেশি মিষ্টি এবং শাঁস রসালো হয়ে থাকে। সাধারণ লংগানের তুলনায় এর পাতা ও ফলের রঙ গাঢ় লাল বা মেরুন হওয়ায় একে ‘রেড লংগান’ ও বলা হয়। লংগান ফলের মূল উৎপত্তি দক্ষিণ চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। চীনা ভাষায় এর অর্থ ‘ড্রাগন আই’ (Dragons Eye)। প্রাচীনকাল থেকেই চীনে এই ফলের চাষ হয়ে আসছে। অন্যদিকে, লাল রঙের রুবি লংগান তুলনামূলকভাবে একদম নতুন ও আধুনিক একটি জাত। এটি মূলত থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের একটি আকর্ষণীয় প্রজাতি, যা উদ্ভাবন ও গবেষণার মাধ্যমে স¤প্রসারিত হয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে এর মূল চাষ শুরু হলেও, এখন চীন, ভারত এবং বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এর বিস্তৃতি ঘটেছে। আমাদের দেশে সহজে এ ফলের চাষ করা হচ্ছে। এটি আকারে সাধারণ লংগানের চেয়ে কিছুটা বড় এবং এর পুরো গাছ (পাতা, ডাল ও ফল) লালচে রঙের হয়। ফলের ভেতরের শাঁসটি রসালো ও স্বচ্ছ সাদা হয় এবং এর মিষ্টতা লিচুর চেয়েও বেশি হয়ে থাকে। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এই গাছ খুব ভালো জনে। বর্তমানে গ্রাফটিং বা গুটি কলমের মাধ্যমে ছাদবাগান এবং জমিতে এর চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বছরে দুইবার ফল ধরে। ফল খুব সুস্বাদু হয়ে থাকে। রুবি লংগান উচ্চ ফলনশীল জাত। রুবি লংগান লাল ও ভিতরে সাদা হয। এই ফল লিচুর চেয়ে আকারে ছোট হলেও খেতে লিচুর চেয়ে অধিক সুস্বাদু ও মিষ্টি। 
এদিকে দিন যতই বাড়ছে চারাও বেশি বিক্রি হচ্ছে। ফলে আগ্রহ বাড়ছে স্টল মালিকদের। রোববার মেলার নবম দিন বিকেলে বৃক্ষমেলার স্টলগুলোতে নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত মেলা প্রাঙ্গণ। কেউ আসছে গাছের চারা কিনতে, আবার কেউ প্রিয়জনকে নিয়ে মেলায় এসেছে ঘুরতে। 
সার্বক্ষণিক মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১১ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত মাসব্যাপী এ মেলা। 
জেলা প্রশাসন এবং খুলনা সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ-এর উদ্যোগ চলছে খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১০টি স্টলসহ মোট ৬২টি স্টল রয়েছে। 
নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত মোঃ জাকির হোসেন বলেন, গত শনিবার বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ৩৭৬টি, ফলজ ১০১০টি, ঔষধি ১৩০টি, শোভা বর্ধনকারী ৯৪৫টি, ফুল ৯০৬টি ও অন্যান্য ১৪০টি। সর্বমোট ৩ হাজার ৫০৭টি চারা বিক্রি হয়েছে। যার মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩৬০ টাকা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ