খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ জুলাই ২০২৬ | ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

গোল্ডেন গ্লাভস জিতলেন উনাই সিমন

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৪:৫১ এ.এম | ২০ জুলাই ২০২৬

 

বিশ্বের অন্যতম সেরা তিন গোলকিপার নিয়ে বিশ্বকাপে আসে স্পেন। আর্সেনালের ডেভিড রায়া কিংবা বার্সেলোনার জোয়ান গার্সিয়ারা এ বছর নিজেদের ক্লাবের হয়ে দারুণ পারফর্ম করে ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। কিন্তু সব আলোচনাকে একপাশে সরিয়ে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের আসল আস্থা জয় করে নিয়েছিলেন অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের উনাই সিমোন। আর সেই আস্থার কী দারুণ প্রতিদানই না দিয়েছেন সিমন।

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। লা রোহাদের গোলপোস্ট সামলানোর গুরুদায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করে বিশ্বকাপের সেরা গোলকিপারের পুরষ্কার গোল্ডেন গ্লাভস জিতেছেন স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমন। স্পেনের গোলপোস্টের নিচে বিশ্বকাপ জুড়ে প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যাবে, এবারের টুর্নামেন্টে উনাই সিমোন ছিলেন প্রায় অনবদ্য।

‘লা রোহাদের’ হয়ে ৮টি ম্যাচের প্রতিটিতেই সিমন পোস্টের নিচে দাঁড়িয়েছেন। আর এই ৮ ম্যাচে গোল হজম করেছেন মাত্র একটি! গ্রুপ পর্বে স্পেনের জাল অক্ষত রাখার পাশাপাশি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের বিপক্ষেও বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দলকে উদ্ধার করেছেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে কেবল কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তাকে পরাস্ত করা গেছে; তবে সেটিও সিমোনের কোনো ভুল ছিল না, বরং কিছু দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির কারণেই গোলটি হয়ে যায়।

এই সাত ম্যাচের মধ্যে ‘সোফাস্কোর’ রেটিংয়ে মাত্র দুবার সিমনের পয়েন্ট সাতের নিচে নেমেছে—একটি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে, যেখানে তাকে তেমন কোনো পরীক্ষাই দিতে হয়নি; আর অন্যটি বেলজিয়ামের বিপক্ষে, যেখানে গোল হজম করেছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই গোলকিপার। এছাড়া বাকি সব ম্যাচেই তাঁর পারফরম্যান্স ছিল এককথায় দুর্দান্ত।

আধুনিক ফুটবলের ‘সুইপার কিপার’ উনাই সিমোন কেন অন্য সবার চেয়ে আলাদা, তার উত্তর লুকিয়ে আছে তার খেলার শৈলীতে। আধুনিক ফুটবলে যাকে বলা হয় একজন খাঁটি ‘সুইপার কিপার’। অর্থাৎ,  শুধু গোললাইনেই দাঁড়িয়ে থাকেন না অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের এই গোলকিপার, বরং ডি-বক্সের বাইরে বেরিয়ে এসে দলের রক্ষণভাগকে আক্রমণ তৈরিতে সরাসরি সাহায্য করেন।

আধুনিক গোলকিপারদের যা যা গুণ থাকা দরকার, তার সবটুকুই আছে সিমোনের মধ্যে—গতিশীল, পায়ে বল নিয়ন্ত্রণে পটু, প্রতিপক্ষের কৌশল দ্রুত পড়তে পারেন এবং সবচেয়ে বড় কথা, সঠিক সময়ে সঠিক পজিশনে চলে আসতে পারেন। প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডরা যখন তাকে চেপে ধরে, তখনও তিনি মাথা ঠান্ডা রেখে বল ক্লিয়ার বা পাস করতে পারেন। তবে ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খুব একটা পরীক্ষা দিতে হয়নি সিমনকে। ছন্নছাড়া লিওনেল মেসিদের সামনে অলস সময়ই কাটিয়েছেন সিমন। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ